দীর্ঘ এক মাস আত্মসংযম, ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টার পর ঈদের দিনটি যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য এক বিশেষ পুরস্কার। হিজরি সালের দশম মাস শাওয়ালের প্রথম দিন এই পবিত্র উৎসব পালিত হয়।
শাওয়াল মাসকে ইসলামি জীবন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ‘শাওয়াল’ শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত। এর অর্থ হলো উঁচু করা, উন্নত করা, পূর্ণতা অর্জন করা বা বিজয় লাভ করা। এ অর্থের মধ্যে একটি গভীর তাৎপর্য নিহিত আছে। রমজানের এক মাসের সিয়াম সাধনা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং ইমানকে দৃঢ় করে।
শাওয়াল মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল হলো ছয়টি নফল রোজা পালন করা। হাদিসে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি রমজানের ফরজ রোজা পালন করার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখে, সে যেন সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব লাভ করে। (সহিহ মুসলিম: ২৮১৫, সুনানে তিরমিজি: ৭৫৯) এর পেছনে একটি সুন্দর ব্যাখ্যা রয়েছে।
ইসলামে প্রতিটি নেক কাজের প্রতিদান কমপক্ষে দশগুণ করে দেওয়া হয়। রমজানের ত্রিশটি রোজা এবং শাওয়ালের ছয়টি রোজা মিলিয়ে মোট ছত্রিশটি রোজা হয়। যদি প্রতিটি রোজার প্রতিদান দশগুণ ধরা হয়, তবে তা দাঁড়ায় তিনশ ষাট দিনের সমান, যা একটি পূর্ণ বছরের দিনসংখ্যার কাছাকাছি। এই হিসাব থেকে বোঝা যায় যে, শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখার মধ্যে কত বড় ফজিলত নিহিত রয়েছে।
এই ছয়টি রোজা একটানা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে ধারাবাহিকভাবে রাখতে পারে, আবার কেউ চাইলে ভেঙে ভেঙেও রাখতে পারে। ইসলামের বিধানে মানুষের সহজতা ও সুবিধার বিষয়টি সব সময় গুরুত্ব পেয়েছে। তাই যে কোনো উপায়ে এই রোজাগুলো আদায় করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কারও যদি রমজানের কোনো রোজা কাজা থাকে, তাহলে প্রথমে সেই কাজা রোজা আদায় করা উত্তম।
যদিও অনেক আলেমের মতে, শাওয়ালের ছয়টি রোজা কাজা রোজার আগেও রাখা যেতে পারে। এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, তিনি অনেক সময় রমজানের কাজা রোজা পরবর্তী শাবান মাসে আদায় করতেন। (সহিহ বুখারি: ১৯৫০, সহিহ মুসলিম: ১১৪৬) এতে বোঝা যায় যে, কাজা রোজা পরবর্তী রমজান আসার আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়।