হোম > খেলা

তামিমের রানের চেয়ে রাগই বেশি আলোচনায়!

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল চলতি বিপিএলে তার দলের হয়ে এখনো সর্বোচ্চ রানের মালিক। ৭ ম্যাচে তার রান ২৩০। দুটি হাফ সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ৮৬। স্ট্রাইকরেট ১৩৬.৯০। ৭ ম্যাচে ৫ জয় নিয়ে তার দলের পয়েন্ট ১০। টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফরচুন বরিশাল। তবে ব্যক্তিগত ও দলীয় এই পারফরম্যান্সের সাফল্যের চেয়ে এই টুর্নামেন্টে বেশি আপাতত বেশি আলোচনায় তামিম ইকবালের মেজাজ!

মাঠে রেগে যাচ্ছেন। মাঠের বাইরেও রাগ ঝাড়ছেন। আস্তিন গুটাচ্ছেন। ব্যাটিংয়ের সময় রাগ দেখাচ্ছেন। আউট হয়েও মেজাজ ঠিক রাখতে পারছেন না। শুধু প্রতিপক্ষ নয়, নিজ দলের সতীর্থের সঙ্গেও এমন ঝুটঝামেলায় পড়ছেন তামিম।

আর তাই প্রশ্ন উঠছে, তামিম ইকবাল কেন এত রেগে যান। সিলেটের পর এখন চট্টগ্রামেও তেমন তামিমের দেখা পেল বিপিএল।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে অ্যালেক্স হেলসের সঙ্গে বিবাদে জড়ান তামিম ইকবাল। ওই ঘটনায় তামিম শাস্তিস্বরূপ এক ডিমেরিট পয়েন্ট পান। সেখানেই শেষ নয়; চলতি বিপিএলে আরও দুবার মেজাজ হারান তামিম ইকবাল। ফরচুন বরিশাল অধিনায়ক চট্টগ্রামের মাটিতে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচে সাব্বির রহমানের সঙ্গে অসদাচরণ করতে দেখা যায়। অনেক দূর থেকে সাব্বিরকে লক্ষ করে তিনি যে বাজে মন্তব্যটি করেছিলেন, সেটা পুরো দুনিয়া শুনেছে। ওই দুই ঘটনার পর গতকাল চট্টগ্রামে ফের মেজাজ হারান তামিম ইকবাল। এবার সতীর্থ দাভিদ মালানের সঙ্গে রাগারাগি করতে দেখা যায় তাকে।

তামিমের এমন মেজাজ হারানোর ঘটনা তৈরি করছে বিস্ময়ের। ফরচুন বরিশালের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা তামিম দলটির সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার। সাম্প্রতিক সময়ে তামিমকে নিয়ে বারবার অসদাচরণের অভিযোগ ওঠা জন্ম দিচ্ছে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের। কারণ, এর আগে তামিমের মাঠের এমন আচরণ খুব একটা সামনে আসেনি। বরাবরই মাঠে ‘কুল’ থাকার জন্য পরিচিত ছিলেন। এমনকি তিনি টিমম্যান হিসেবে দারুণ প্রশংসিতও হয়েছিলেন বহুবার। সাম্প্রতিক সময়ে তামিমের এমন মেজাজ হারানোয় তাই নানা ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

সিলেটে অ্যালেক্স হেলসের সঙ্গে মাঠে বিবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই চট্টগ্রামে সাব্বিরের সঙ্গে অসদাচরণ করে বসেন তামিম ইকবাল। সাব্বিরের উদ্দেশে তামিম বলেন, ‘আমার সঙ্গে লাগতে আইসো না সাব্বির। আমার সঙ্গে লাগতে আইসো না।’ একই ম্যাচে পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ দেরি করে আসায় ম্যাচসেরার পুরস্কার নেননি তামিম।

হেলসের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে জরিমানা হলেও সাব্বিরের সঙ্গে ঘটনায় তামিমের কোনো শাস্তি হয়নি। প্রকাশ্যে আসেনি বোর্ড সভাপতির সঙ্গে তামিমের বাজে ব্যবহারের ঘটনাও। মাঠে তামিমের এমন আচরণে বেশ বিস্মিত হয়েছেন দেশের বেশিরভাগ ক্রিকেট সমর্থক। কারণ, ‘টিমম্যান’ হিসেবে তামিমের প্রশংসার বৈপরীত্য দেখা গেছে এ দুই ঘটনায়।

গতকাল চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে তৃতীয় ওভারে রানআউট হন তামিম ইকবাল। স্ট্রাইকিংয়ে থাকা ডেভিড মালান ড্রাইভ করেন। বল কাভারে যায়। তামিম রান নেওয়ার জন্য দৌড় দেন। কিন্তু অপর প্রান্তে মালান ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন। রান নিতে অস্বীকৃতি জানান। তামিম আর ক্রিজে ফিরতে পারেননি। রানআউট হন। ১৪ বলে ৮ রান করে ডাগআউটে ফেরার পথে মালানের উদ্দেশে কিছু একটা বলেছেন- সেটা স্পষ্ট বোঝা যায় টিভি পর্দায়। তামিমের সেই ‘কিছু বলা’ যে মোটেও সুখকর-জাতীয় কিছু ছিল না, সেটা মালানের মুখভঙ্গি ও আচরণেই স্পষ্ট। প্রতি-উত্তরে মালানও তামিমের উদ্দেশে কিছু একটা বলেন। দুজনের অঙ্গভঙ্গিতে স্পষ্ট- বেশ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে দুজনের মধ্যে। ডাগআউটে ফেরার পর তামিম সেখানেও নিজের ওই রাগ ঝাড়েন। সেটাও স্পষ্ট দেখা গেছে টিভি পর্দায়।

তিন সপ্তাহে তিন-তিনবার মেজাজ হারানো তামিমকে নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠছে- কেন রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না তিনি। তবে চিটাগং কিংসের বিরুদ্ধে গতকালের ম্যাচে দাভিদ মালান যখন হাফ সেঞ্চুরির জন্য ব্যাট তোলেন, তখন ডাগআউটে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে তামিম সেই আনন্দেও সঙ্গী হন।

তামিমের অযাচিত রাগ তার ক্রিকেট মর্যাদাকে ক্রমশ অসম্মানিত করছে যে!

পাকিস্তানকে হারিয়ে সবার আগে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

সাফ গেমস ঘিরে টিটির প্রত্যাশা

‘সুপার সাব’ সেসকোতে উদ্ধার ম্যানইউ

বেতনভুক্ত হবেন হামজা চৌধুরীরা

কঠিন গ্রুপে বাংলাদেশের মেয়েরা

ফিফা-উয়েফা লালকার্ড দেখছে!

পাকিস্তানের আজ টিকে থাকার লড়াই

টিভিতে দেখবেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের খেলা

আদালতে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিসিবির নির্বাচন

জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে বড় জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের