কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আপাতত আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। আজ স্টেডিয়ামটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তবে এই স্টেডিয়ামকে ঘিরে ‘স্পোর্টস ট্যুরিজম’ কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে কক্সবাজারের মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফেরানো কিছুটা কঠিন। তবে আমরা এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।”
তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য কক্সবাজারকে শুধু পর্যটন নগরী হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে ‘স্পোর্টস ট্যুরিজম’-এর একটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে স্টেডিয়ামের গ্যালারি ও অবকাঠামো আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দর্শকদের জন্য বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে নতুন ধরনের নকশা ও সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্টেডিয়ামের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “গ্যালারির প্রচলিত কাঠামোর বাইরে ঘাসের ওপর বসে বা শুয়ে খেলা দেখার যে সংস্কৃতি বিদেশে রয়েছে, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তেমন কিছু করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় স্পোর্টস ট্যুরিজম গন্তব্যে পরিণত করা সম্ভব।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মধ্যে অতীতে থাকা সমন্বয় ঘাটতির প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে যে গ্যাপ ছিল, তা আর থাকবে না। এখন সবকিছু একদম সোজা পথে এগোবে এবং দ্রুত উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান হবে।’
দুই দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে কক্সবাজারে অবস্থানকালে প্রতিমন্ত্রী লাবণী পয়েন্টে ‘অষ্টম জাতীয় সার্ফিং টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি সার্ফিংয়ের জন্য নির্ধারিত এলাকা পরিদর্শন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা স্টেডিয়াম, প্রস্তাবিত স্পোর্টস ভিলেজ এলাকা, বিকেএসপি এবং স্থানীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রমও ঘুরে দেখেন।
সব মিলিয়ে, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।