সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে চলছিল দুর্বার রাজশাহী ও সিলেট স্ট্রাইকার্সের অনুশীলন। লম্বা সময় ব্যাটিং করে টেন্টে ফেরার পথে রাজশাহীর এক বিদেশি ব্যাটার হতাশা প্রকাশ করলেন নেট বোলাররা। অস্ফুট স্বরে তার কণ্ঠে শোনা গেল, ‘বোলার’স কোয়ালিটি সো পুওর’। এটুকু শোনার পর বুঝতে অসুবিধা থাকার কথা নয় অভিযোগটা নেট বোলারদের নিয়ে। কারণ- এর আগেও সিলেটে নেট বোলারদের মান নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের আগে অনুশীলনের সময় তাদের মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন জাতীয় দলের দুই-তিনজন ক্রিকেটার। এমনকি নেটে তাদের নেটে বোলিং করতেও নিষেধ করেন তারা। গতকালের এই বিদেশি ক্রিকেটারের ওই কথা ফেরালো ২০২৩ সালের পুরোনো ওই স্মৃতি।
সাম্প্রতিক সময়ে বোলারদের ভূস্বর্গ হিসেবে পরিচয় পেয়েছে সিলেট। তাপস বৈশ্য-নাজমুল হোসেন কিংবা এনামুল হক জুনিয়রের পর মানসম্পন্ন বোলার পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে লম্বা সময়। দীর্ঘ ওই অপেক্ষার অবসান হয়েছে নাসুম আহমেদ, ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিবদের মতো দারুণ কিছু বোলার ওঠে এসেছেন। এ ছাড়া আছে রেজাউর রহমান রাজা-আবু জায়েদ রাহিদের মতো ক্রিকেটাররাও ওঠে এসেছেন সিলেট থেকে। তবু সিলেটের নেট বোলার নিয়ে দলগুলোর অভিযোগ সঠিক সার্ভিস পাচ্ছেন না। নেট বোলারদের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ব্যাটারদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকছে। সেই ঘাটতি মেটাতে দলের স্কোয়াডে থাকা বোলাররাই হয়ে উঠেছে ব্যাটারদের প্রস্তুতির একমাত্র উপায়। মূলত সে কারণেই ক্রিকেটারদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকছে বলে জানান বিপিএলের বেশ কয়েকটি দল।
নেট বোলারদের মান নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে খুলনা টাইগার্স কোচ তালহা জুবায়ের আমার দেশকে বলেন, ‘সিলেটে নেট বোলারদের মান খারাপ এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। মান খারাপ হলেও দলের ওপর খুব একটা প্রভাব পড়ে না। কারণ- এখানে অনুশীলন কম করা হয়। দ্বিতীয়ত, দলের বোলারদের দিয়ে ওই ঘাটতি মেটানো হয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো এত বেশি একাডেমি সিলেটে নেই। সে কারণে চাইলেই খুব ভালো মানের নেট বোলার আমরা পাই না।’
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে সিলেটের সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ রাজিন সালেহ জানান, দায়টা মূলত বাছাই প্রক্রিয়ায়। এ ছাড়া পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে ভালো মানের অনেক বোলার নেটে বোলিংয়ের সুযোগ পান না বলেও জানান। তার কথায়, ‘সিলেটে এখন ভালো মানের বোলার আছে। ওইভাবে বাছাই করে যদি সুযোগ দেওয়া হতো তাহলে এমন অভিযোগ আসত না। এবার নেট বোলার বাছাইয়ে অনেক পক্ষপাতমূলক আচরণ হয়েছে। এটাই অভিযোগ ওঠার একটা কারণ।’
অবশ্য শুধু এটাকেই কারণ হিসেবে দাঁড় করাননি রাজিন সালেহ। বিপিএলের সিলেট পর্বে যেসব নেট বোলার নেওয়া হয়েছে- সবাই সব দলে নিয়মিত বোলিং করছে। তাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে বলেও জানান। তিনি বলেন, ‘এবারের বিপিএলে নির্দিষ্ট সংখ্যক নেট বোলারকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে এর বাইরে কোনো নেট বোলার নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না দলগুলো। বোলারদের শরীরের ওপর দিয়ে বেশ ধকল যাচ্ছে- এটাও তাদের বোলিং খারাপ হওয়ার মূল কারণ।’ নেট বোলারদের মাঠে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি করা হয়েছে। ফলে দলগুলো চাইলেও বাড়তি নেট বোলার মাঠে আনার সুযোগ পাচ্ছে না। এ কারণে নেট বোলার নিয়ে ক্রিকেটারদের এমন অভিযোগ বলে মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার রাজিন সালেহ।