ক্রিকেটে রোমাঞ্চের সংজ্ঞা যদি নতুন করে লিখতে হয়, তবে আহমেদাবাদের এই ম্যাচটি নিঃসন্দেহে জায়গা পাবে শীর্ষে। নির্ধারিত ২০ ওভার, এরপর এক নয়—দুই সুপার ওভার; শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় আফগানিস্তানকে হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা।
টি-টোয়েন্টিতে এটা চতুর্থ সুপার ওভার। এর আগের তিনটি ছিল শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড (২০১২), নিউজিল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০১২) ও যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান (২০২৪)। আর টাই হিসেবে ধরলে ৫ম টাই ম্যাচ। প্রথমটা ছিল ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার ২০০৭ সালের ফাইনাল। সেটা সুপার ওভারের বদলে বোল আউট সিস্টেমে টাইব্রেকার হয়।
এদিকে, ডাবল সুপার ওভারের দ্বিতীয় ঘটনা এটি। এর আগেরটি ছিল ভারত-আফগানিস্তান (২০২৪)। ক্রিকেট ইতিহাসে ট্রিপল সুপার ওভারের নজির আছে একটিই, নেপাল-নেদারল্যান্ডস ম্যাচে (২০২৫)।
‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে বুধবার দুই দলই তোলে ১৮৭ রান। টাই হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। প্রথম সুপার ওভারেও ১৭ রান করে সমতা বজায় রাখে দুই দল। ফলে শুরু হয় দ্বিতীয় সুপার ওভারের বিরল লড়াই। আজমতুল্লাহ ওমরজাইয়ের করা দ্বিতীয় সুপার ওভারে ডেভিড মিলার ও ট্রিস্টিয়ান স্টাবস ২৩ রান তোলেন। জয়ের জন্য ২৪ রানের লক্ষ্য পায় আফগানিস্তান।
প্রথম বল ডট হওয়ার পর দ্বিতীয় বলেই আউট হন মোহাম্মদ নবি। তবে রহমানুল্লাহ গুরবাজ টানা তিন ছক্কা মেরে আশা জাগান। শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ছক্কা, কিন্তু ক্যাচ তুলে দিলে ৪ রানে হেরে যায় আফগানরা।
এই হারে বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে ওঠার সমীকরণ কঠিন হয়ে গেল রশিদ খানের দলের। আর অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ জিতে স্বস্তির হাসি দক্ষিণ আফ্রিকার শিবিরে।