দশ হাজার রানের ক্লাবে নাম লেখাবেন ভেবেই মাঠে নেমেছিলেন। কীর্তি ছোঁয়ার খুব কাছেই ছিলেন। নতুন এই মাইলফলক ছুঁতে দরকার মাত্র ছিল ৩৮ রান। কিন্তু স্টিভেন স্মিথ থেমে যান এক রান আগেই। সিডনি টেস্টের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করেন ৩৩ রান। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাট ছুঁয়ে আসে মাত্র ৪ রান। ম্যাচের দুই ইনিংস থেকে ৩৭ রান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন স্মিথ।
এ কারণে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে গালিতে ক্যাচ দিয়ে আক্ষেপের আগুনে পুড়তে থাকেন অস্ট্রেলিয়ার এ তারকা ব্যাটার। তাতে ক্রিকেটের এলিট সংস্করণে স্মিথের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৯৯৯৯। লাল বলের সেই ম্যাচ শেষ হয়েছে ১০ দিন হলো। অবশেষে নিজের আউটের নেপথ্যের কারণ জানালেন তিনি।
স্মিথের ৯৯৯৯ রানে উইকেট থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য দায়ী তার সতীর্থ জশ হ্যাজলউডই। এমন দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার আপৎকালীন অধিনায়ক। ব্যাপারটা অবাক লাগছে না? ভাবছেন হ্যাজলউড তো সিডনি টেস্টের অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডেই ছিলেন না। তাহলে তিনি কী করে স্মিথের বিদায় নেওয়ার নেপথ্যে কাজ করলেন?
সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে আসলে ৩৮ সংখ্যাটাই। স্মিথের রান দরকার ছিল ৩৮। জশ হ্যাজলউডের জার্সি নম্বরও ৩৮। স্মিথ জানান, সিডনি টেস্টের আগে চোখ বন্ধ করলেই হ্যাজলউডের জার্সি নম্বরটা ভেসে উঠত তার সামনে। আর এ ঘটনার কারণে বিঘ্ন হয়েছে তার ব্যাটিং মনঃসংযোগ। ১০ হাজার রানের কীর্তি ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখে চাপের মধ্যেই ছিলেন। যেটা প্রভাব ফেলেছে তার খেলার ওপর।
এ নিয়ে স্মিথ বলেন, ‘সাধারণত আমি পরিসংখ্যানে খুব বেশি চোখ রাখি না। তবে ১০ হাজারের ব্যাপারটা তো আলাদাই। মাইলফলকটা খুব কাছে চলে আসায় ম্যাচের আগে এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অনেক কথা বলতে হয়েছে। জানতাম, ৩৮ রান দরকার। রাতে যখনই ঘুমাতে চেষ্টা করেছিলাম জশ হ্যাজলউডের জার্সিটা চোখে ভাসত, কারণ ওর জার্সি নম্বর ৩৮।’
মাইলফলক নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেননি স্মিথ। এ নিয়ে দুঃখ করলেন স্মিথ, ‘আমার খেলা অন্য যে কোনো ম্যাচের চেয়ে এসব নিয়ে বেশি ভেবেছি এবার। দুঃখজনক ঘটনাই বলব। ঘুমের হিসাবে জঘন্য এক সপ্তাহ কাটিয়েছিলাম। মোটেও ভালো কিছু ছিল না। ভাগ্য ভালো শেষ পর্যন্ত আমরা এই ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করেছি।’ ঘুম না হওয়াটা অবশ্য স্মিথের পুরোনো সমস্যা। অনেকে বলেন, লাল বলের ম্যাচ চলাকালে নাকি রাতে ঘুমানই মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা।
সিডনিতে নিজেদের মাঠে ১০ হাজারতম রানের দেখা হয়তো পাননি স্মিথ। তবে এজন্য তার অপেক্ষা শেষ হচ্ছে দ্রুতই। ২৯ জানুয়ারি থেকে গলে গড়াতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা-অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট। ওয়ার্ন-মুরালিধরন ট্রফির এই ম্যাচেই কীর্তিটা ছুঁয়ে ফেলতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার এ ক্রিকেট তারকা।