বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। দেশের শীর্ষ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘বঙ্গ’ এবং ‘এক্সেল স্পোর্টস’-এর যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে পেশাদার বক্সিং লিগ ‘এক্সেল কন্টেন্ডার সিরিজ’।
এই চুক্তির আওতায় বছরজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে ছয়টি বক্সিং ইভেন্ট। এসব আয়োজনের প্রযোজনা, চিত্রায়ন এবং ডিজিটাল সম্প্রচার অংশীদার হিসেবে কাজ করবে বঙ্গ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ দেশের ক্রীড়া বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
বাংলাদেশের কমব্যাট স্পোর্টস ইতিহাসে ‘এক্সেল কন্টেন্ডার সিরিজ’কে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লিগভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় বক্সাররা নিয়মিত অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন, যা তাদের পেশাদার চুক্তি স্বাক্ষর, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লড়াই এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক হবে।
ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট এবং পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উদীয়মান বক্সাররা এতে অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইমন তঞ্চঙ্গ্যা, মুহাম্মদ উৎসব আহমেদ, হোসাইন আহমেদ, মো. রাকিব হোসেন এবং নারী বক্সার সাগরিকা চাকমা।
শুধু রিংয়ের লড়াই নয়, এই আয়োজন ঘিরে বছরজুড়ে দর্শকদের জন্য তৈরি করা হবে নানা ধরনের কনটেন্ট। প্রামাণ্যধর্মী ধারাবাহিক, প্রশিক্ষণ শিবিরের বিশেষ কভারেজ, পর্দার পেছনের গল্প এবং লড়াই-পূর্ব প্রস্তুতির নানা আয়োজনের মাধ্যমে বক্সারদের জীবন ও সংগ্রাম আরও কাছ থেকে তুলে ধরা হবে।
এ প্রসঙ্গে এক্সেল প্রমোশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশ বক্সিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আদনান হারুন বলেন, “এক্সসিএস কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়—এটি বাংলাদেশের বক্সিংয়ের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি দীর্ঘমেয়াদী কাঠামো। প্রথমবারের মতো আমাদের বক্সাররা এমন একটি সুশৃঙ্খল প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছে যেখানে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবে। আমাদের লক্ষ্য হলো চ্যাম্পিয়ন তৈরি করা এবং তাদের লড়াইয়ের গল্প বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়া।”
এই যৌথ উদ্যোগ স্পোর্টস বিনোদন খাতে বঙ্গের সম্প্রসারণ পরিকল্পনারই অংশ। এক্সেল স্পোর্টসের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে তারা অন্যান্য লিগ, কনটেন্ট নির্মাতা এবং স্বত্বাধিকারীদের জন্য মানসম্মত প্রযোজনা ও সম্প্রচারের সুযোগ তৈরি করতে চায়।
আগামী ১১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সিরিজের প্রথম ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই লিগের মাধ্যমে বাংলাদেশের বক্সিংয়ে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে—যেখানে খেলাধুলা, জীবনগল্প এবং সম্ভাবনার সমন্বয়ে গড়ে উঠবে এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।