শুরু থেকে শেষ অবধি- মাঠের লড়াইয়ে চলল কেবল বার্সেলোনার রাজ। আগ্রাসী ফুটবলের ফুল ফুটিয়ে কাতালানরা করল গোল উৎসব। তাদের আক্রমণের ঝড়ে প্রতিপক্ষ রিয়াল বেটিস হলো নাস্তানাবুদ। বুধবার রাতে ৫-১ গোলে জিতেছে বার্সা। গোল বন্যার ম্যাচ জিতে কোপা দেল রে’র কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে কোচ হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। এনিয়ে টানা দুই ম্যাচে ৫ গোল পেল বার্সা।
গত রোববার সৌদি আরবের মরুর বুকে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে চিরশত্রু রিয়াল মাদ্রিদকে ৫-২ ব্যবধানে গুঁড়িয়ে শ্রেষ্ঠত্ব ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। প্রথমার্ধে গাভি বার্সাকে লিড এনে দিলে গোল ব্যবধান দ্বিগুন করে ফেলেন জুল কুন্দে। দ্বিতীয়ার্ধে গোল এনে দেন রাফিনহা, ফেররান তোরেস ও লামিনে ইয়ামালও। ম্যাচের শেষ ভাগে পেনাল্টি থেকে সান্ত্বনার একটি গোল পান বেতিসের ভিতোর রোক। গোলের সন্ধান না পেলেও সতীর্থদের দুটি গোলে সহায়তা করেন দানি ওলমো।
ফুটবল দুনিয়ায় লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে এখন চলছে মাতামাতি। এ স্প্যানিশ তরুণ তুর্কির নৈপুণ্যে বুঁদ হয়ে আছে ফুটবল অনুরাগীরা। এই কাতারে রয়েছেন তার ক্লাব সতীর্থ থেকে কোচও। ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনহা বলছেন, ‘লামিনে বেশ কয়েকটি ব্যালন ডি’অর জিতবে, কম করে হলেও তিনটি।’
ইয়ামালের স্তুতি গেয়ে আরেক সতীর্থ গাভির সঙ্গে ফুটবল গুরু ফ্লিকও মানছেন, ‘মেসির পর ইয়ামালই সেরা ফুটবলার।’ এত প্রশংসা কেন ইয়ামালকে নিয়ে? জবাবটা ইয়ামাল দিয়েছেন কোপা দেল রে’র শেষ ষোল পর্বের এ ম্যাচেই।
স্কোরশিট বলছে, গোলের দেখা পেয়েছেন বার্সার ভিন্ন ভিন্ন পাঁচ ফুটবলার। বার্সার জার্সিতে সবার শেষে জালের সন্ধান পান ইয়ামাল। কিন্তু বার্সার ১৭ বছরের এ উইঙ্গারকে নিয়েই আলোচনা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের শিরোনামেও উঠে এসেছে ইয়ামালের নাম। ইয়ামাল নিজে একটি গোল পেলেও সতীর্থদের আরও দুই গোলে রেখেছেন অবদান। রেফারির অফসাইডের বাঁশির কারণে আরও একটি গোল থেকেও হয়েছেন বঞ্চিত।
আর মাঠে তো ফুটবল ম্যাজিক দেখিয়েছেন। প্রতিপক্ষের ফুটবলারের দুই পায়ের ফাঁক গলে বল বের করেছেন, বোকা বানিয়ে ছেড়েছেন শারীরিক কসরতে, উইং ধরে রকেটগতির দৌড়ে আক্রমণও রচনা করেছেন। অনিন্দ্য ড্রিবলিংয়ে সাজিয়েছিলেন ছন্দময় ফুটবলের পসরা। তাতেই চলছে ইয়ামালের জয়গান।
নিজেদের সেরা একাদশ মাঠে নামায়নি বার্সা। রবার্ট লেভানডভস্কি, মার্ক কাসাদো, আলেজান্দ্রো বালদে পেয়ে ছিলেন বিশ্রাম। যে কারণে গাভি-ইয়ামালদের কাঁধে ছিল সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরু দায়িত্ব। বয়স কম হলেও দায়িত্ব পালনে তারা দৃঢ়চেতা সেনানী। এ ম্যাচে তারা যেটা করেছেন, তাতে কোচের কাছ থেকে দুজনের প্রাপ্য এক শতে এক শই।
তবে এককভাবে ইয়ামাল পেতে পারেন দুই শও! ম্যাচের ২৭ মিনিটে জুলস কুন্দের গোলে চমৎকার লব দিয়ে তার প্রমাণও দিয়েছেন। আর ৫৮ মিনিটে রাফিনহার গোলে আগে পাল্টা-আক্রমণও রচনা করেন এ তরুণ তুর্কি। ৭৫ মিনিটে তো নিজেই উপহার দিয়েছেন চমৎকার এক গোল। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে ২৪ ম্যাচে ৯ গোল করে সতীর্থদের ১৩ গোলে অবদান রেখেছেন ইয়ামাল।