আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৩৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টানা চার টি-টোয়েন্টিতে হার দেখল লিটন দাসের দল। সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসার পালা আজ বাংলাদেশের সামনে। নচেৎ, এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হার নিশ্চিত করবে বাংলাদেশ। শুধু জয় নয়, ব্যাটারদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ আজকের ম্যাচ। টি-টোয়েন্টিতে খুব একটা ছন্দে নেই বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ফলে, বিশ্বকাপে আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার একরকম শেষ সুযোগটাই আজ পাচ্ছেন তানজিদ তামিম-পারভেজ হোসেন ইমনরা।
গত পরশু সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটারই আউট হয়েছেন সিঙ্গেল ডিজিটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ছিল ব্যাটিং ব্যর্থতার এই ধারাবাহিকতা। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজই শেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ বাংলাদেশের জন্য। ফলে, ব্যাটাররা ঠিক কতটা ছন্দে ফিরতে পারছেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। প্রথম টি-টোয়েন্টি শেষে অধিনায়ক লিটন দাস জানান, তার বিশ্বাস পরের (আজকের ম্যাচ) থেকেই ফর্মে ফিরবে তার দল। ব্যাট হাতে নিজেদের প্রমাণ করে অধিনায়ককে কতটা স্বস্তি দিতে পারেন ব্যাটাররা সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের জন্য এখন বড় চিন্তার কারণ শুধুই ব্যাটিং ইউনিট। দুই ওপেনার তানজিদ তামিম-পারভেজ হোসেন ইমনের সঙ্গে সাইফ হাসান ও অধিনায়ক লিটন দাস নিজেও রান করতে পারেননি। মিডল অর্ডারে গত ম্যাচে তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলী পেয়েছেন রানের দেখা। মিডল অর্ডারে শামীম পাটোয়ারীর বদলি হিসেবে ডাক পেয়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। অধিনায়ক লিটনের সামনে আজ তাকেও বাজিয়ে দেখার সুযোগ। এছাড়া ব্যাটিং অর্ডার শাফল করে খেলানোর সুযোগও আছে তার সামনে।
চারে খেলা সাইফ হাসান খেলতে পারেন ওপেনিং কিংবা তিন নাম্বারেও। দুই ওপেনারের ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে তাকে ওপেনিংয়ে পরীক্ষা করার সুযোগ আছে বাংলাদেশের সামনে। এছাড়া অধিনায়ক লিটন দাসও খেলতে পারেন ওপেনিংয়ে। ফলে ব্যর্থতা থেকে বেরিয়ে সঠিক কম্বিনেশন বের করতে ব্যাটিং অর্ডারে নিজেদের সাফল করার সুযোগ আছে বাংলাদেশ। তবে সিরিজ হার এড়াতে টিম ম্যানেজমেন্টের ওই পথে হাঁটার সম্ভাবনা কম। এছাড়া লোয়ার মিডল অর্ডারে নুরুল হাসান সোহানকে খেলানোর সম্ভাবনাও আছে। তবে সেক্ষেত্রে গত ম্যাচে রান পাওয়া জাকের আলী অনিককে যেতে হবে সাইড বেঞ্চে।
ব্যাটিং যত দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে, ঠিক ততটাই স্বস্তি দিচ্ছে বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপ। যদিও শেষ ম্যাচে বোলাররা করতে পারেননি নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স। শরিফুল ইসলাম-তানজিম সাকিবরা পারেননি নিজেদের সেরাটা দিতে। এছাড়া স্পিনার নাসুম আহমেদও করতে পারেননি নিজের নামের প্রতি সুবিচার। তার বদলি হিসেবে আজকের একাদশে শেখ মাহেদিকে খেলাতে পারে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে ব্যাটিং অর্ডারে বাড়তি ব্যাটার খেলানোর সুযোগ থাকবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের সামনে।
শেষ পর্যন্ত দুই বিভাগে সম্মিলিত পারফরম্যান্স দেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশের সমর্থকরা। দ্বিতীয় ম্যাচে এই পারফরম্যান্সের দেখা মিললে হয়তো সিরিজ হেরে বিশ্বকাপের শেষ প্রস্তুতি নিতে হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।