ফেডারেশন কাপ
কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়ামে আবাহনী ও মোহামেডানের লড়াই প্রথমার্ধে জমেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ৭৪ মিনিটে মোহাম্মদ ইব্রাহিম আবাহনীকে এগিয়ে দেন। এরপর পর অনেক চেষ্টায় করেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি মোহামেডান। ফলে ২০২৩ সালের পর আবাহনীর কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় সাদাকালো জার্সিধারীরা। এ নিয়ে ফেডারেশন কাপে ছয় ম্যাচ পর আবাহনীর কাছে হারল মোহামেডান। এই জয়ে ফেডারেশন কাপের নকআউট পর্বের পথে এগিয়ে গেল আবাহনী। ‘বি’ গ্রুপে তাদের অর্জন ৬ পয়েন্ট। দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই জয় পেয়েছে তারা। একই দিন অপর ম্যাচে ফকিরেরপুল ও চট্টগ্রাম আবাহনী ২-২ গোলে ড্র করে। তাদের অর্জন এক পয়েন্ট করে।
উত্তাপ-উত্তেজনাহীন প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার পর ম্যাচে প্রাণ ফিরে দ্বিতীয়ার্ধে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের খেলায় গতি বাড়ে, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমতে শুরু করে। ৪৫ মিনিটে সুযোগ পেয়েছিল আবাহনী। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। ৫৯ মিনিটে বাঁ প্রান্তে মুজাফফরভকে ফাউল করলে ফ্রি কিকের সুযোগ পায় মোহামেডান। কিন্তু তার নেওয়া শট রুখে দেন আবাহনীর শাহরিয়ার ইমন। ৬১ মিনিটে আরিফ দারুণ একটি ক্রস দিলেও আবাহনীর বক্সে কাউকে খোঁজে পাননি। এরপর আবাহনীর গোলমুখে অন টার্গেটে শট নেন ডিফেন্ডার মাহবুব আলম। কিন্তু গোলরক্ষক মিতুল মারমা সহজেই বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। ৬৪ মিনিটে কর্নার কিক নিয়েছিলেন মোজাফফরভ। গোল বক্সে সানডে, দিয়াবাতে সবাই ছিলেন। কিন্তু গোলের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় সাদাকালো জার্সিধারীদের। অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন মিতুল মারমা। ৬৯ মিনিটে দিয়াবাতে আবাহনীর গোলমুখে গেলেও মিতুল পরাস্ত করেন। ৭০ মিনিটে সুযোগ তৈরি হয় আবাহনীর। তবে ইমন গোলমুখে শট নিলেও গোলরক্ষক সুজনকে ফাঁকি দিতে পারেননি।
অবশেষে কাঙ্ক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ আসে ৭৪ মিনিটে। বাঁ প্রান্তে থাকা ইমন লম্বা পাসে বল পেয়ে যান। তার ক্রসে বল পেয়ে গোল করেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। আনন্দের উপলক্ষ পায় আবাহনী। এই গোল হজমের পর আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে সফল হয়নি মোহামেডান। ৮০ মিনিটে মোজাফফরভ ক্রসে দিয়াবাতে হেড নেন। কিন্তু গোল পাননি। ৮২ মিনিটে সানডে লম্বা পাসে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে শট নিলেও তা বল জালের বাইরে চলে যায়। ৮৭ মিনিটে নৈপুণ্য দেখান জুয়েল। দুজনকে কাটিয়ে ক্রস দেন। কিন্তু কেউই আবাহনীর গোলমুখে ছিলেন না। ফলে আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হয়। শেষ মিনিটে সানডের সুযোগ মিস হয়। ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর রক্ষণে যেন দেয়াল তৈরি করে আবাহনী! সেখানে ফাটল ধরাতে পারেনি মোহামেডান।