হোম > খেলা

নিজেদের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করল বার্সেলোনা

স্প্যানিশ সুপার কাপ

স্পোর্টস রিপোর্টার

বার্সেলোনার শিরোপা উৎসব

‘বার্সার চেয়ে সেরা দল হয়ে ম্যাচ শেষ করতে চাই’- ফাইনালের টিকিট কেটেই এমন হুঙ্কার দিয়ে রেখেছিলেন কার্লো আনচেলত্তি। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তার সেই দৃঢ় প্রত্যয়ের ছিঁটেফোঁটাও দেখা মিলল না। মহারণের এল ক্লাসিকোতে পাত্তাই পেল না স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। শ্বাসরুদ্ধকর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্প্যানিশ সুপার কাপের শ্রেষ্ঠত্বই শুধু নয়, রিয়াল মাদ্রিদের করার ছিল আরও অনেক কিছুই।

বার্সেলোনার কীর্তি ছোঁয়ার হাতছানি ছিল তাদের সামনে। কিন্তু স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ে কাতালানদের রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুবর্ণ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ভিনিসিয়াস জুনিয়র-কিলিয়ান এমবাপেরা। গত অক্টোবরে সবশেষ এল ক্লাসিকোতে নিজেদের মাঠ বার্নাব্যুতে বিধ্বস্ত হয়েছিল রিয়াল। সৌদি আরবের মরুর বুকে সেই হারের মধুর প্রতিশোধও নিতে পারল না তারা। সাত গোলের থ্রিলারে দাপট দেখাল দশ জনের বার্সা।

এল ক্লাসিকোর সত্যিকারের রোমাঞ্চ উপহার দিয়ে চিরশত্রু লস ব্লাঙ্কোস শিবিরকে ৫-২ গোলে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছে কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। সঙ্গে ঘরে তুলেছে শিরোপা। তাতে স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের রেকর্ডটা আরও একধাপ সমৃদ্ধ করে ১৫ এ নিয়ে গেল বার্সা।

শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল মূলত প্রথমার্ধেই। কেননা বিরতির আগেই হয়ে যায় পাঁচ গোল। রিয়াল মাদ্রিদ এগিয়ে যায় ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই। বার্সার জাল কাঁপিয়ে দেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে। এতে সবাই ধরেই নিয়েছিল, দারুণ কিছু করতে যাচ্ছে আনচেলত্তির দল। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই হয়নি। চিত্রনাট্য পাল্টে গেছে পুরোপুরি।

এক গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েও বিন্দু মাত্র দমে যায়নি বার্সা। প্রত্যাবর্তনের রূপকথার গল্প লিখে রাফিনহারা পেয়ে যায় চার গোলের সন্ধান। রোববার রাতে জেদ্দার কিংস আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটির ম্যাচে ৪-১ গোলে এগিয়ে থেকে বার্সা বিরতিতে যায় আসরের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট একরকম নিশ্চিত করেই।

দ্বিতীয়ার্ধেও নাটকীয়তার দেখা মিলল। বার্সা গোলের ফারাক বাড়িয়ে নেয় আরও এক ধাপ। লড়াইয়ের ৫৬ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বার্সা গোলকিপার ভয়চেক সেজনি। ম্যাচের বাকি সময়টা শক্তি হারিয়ে ফেলা বার্সাকে খেলতে হয়েছে দশ জনের দল নিয়ে।

কিন্তু এই সুযোগের ফায়দা লুটতে পারেনি রিয়াল। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর সব রকম চেষ্টাই করে গেছে। কিন্তু অবিশ্বাস্য কিছু করতে পারেনি। কেবল ব্যবধান কমিয়েছে তারা। এ নিয়ে টানা দুই এল ক্লাসিকোতে রিয়ালের জালে চার বা তার অধিক গোল দিল ফ্লিকের শিষ্যরা।

ম্যাচ মাঠে গড়াতেই রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে আগ্রাসী ফুটবলে ব্যস্ত রাখে বার্সেলোনা। তবে ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে বল দখলের লড়াইয়ে বার্সা মিডফিল্ডার মার্ক কাসাদোকে হারিয়ে আক্রমণ রচনা করেন রিয়াল ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বল নিয়ে এগিয়ে পাস দেন কিলিয়ান এমবাপেকে। বল পেয়েই দ্রুত এমবাপে পৌঁছে যান বার্সার ডি-বক্সে। প্রতিপক্ষের রক্ষণ চিড়ে নিচু শটে গোলরক্ষক ভয়চেক শেজনিকে বোকা বানান ফরাসি এ সুপারস্টার। খেলার বিপরীতে রিয়াল নেয় ফেলে।

পিছিয়ে পড়েও বার্সা কিন্তু হাল ছেড়ে দেয়নি। উল্টো আক্রমণের ধারটা আরও বাড়িয়ে দেয় তারা। তবে রিয়ালের ডিফেন্ডাররা লিড খুব বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি। লড়াইয়ের ২২ মিনিটে জুলস কুন্দের কাছ থেকে বল পেয়ে মিডফিল্ডে থাকা রবার্ট লেভানডভস্কি পাস দেন লামিনে ইয়ামালকে। রিয়ালের বক্সে হানা দিয়ে ডিফেন্ডারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে নেওয়া তার বাঁ পায়েরে ক্ষিপ্রগতির শট পোস্ট ঘেঁষে বল আছড়ে পড়ে রিয়ালের জালে।

পরে বার্সা হয়ে যায় অপ্রতিরোধ্য। ৩৪ মিনিটে বল দখল নিতে বার্সা মিডফিল্ডার গাভিকে বাজেভাবে ট্যাকল করেন রিয়ালের মাঝ-মাঠের তারকা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। ভিএআরের সহায়তায় কামাভিঙ্গাকে হলুদ কার্ড দিয়ে পেনাল্টির বাঁশি নির্দেশ দেন রেফারি। দুরন্ত এক কিকে ৩৬ মিনিটে বার্সাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন লেভানডভস্কি। পরে রিয়ালের দুর্দাশা বেড়ে যায় আরও। ৩৯ মিনিটে প্রায় কুন্দে লম্বা পাস দেন আনমার্ক রাফিনহার দিকে। উড়ে আসা বলে মাথা ছুঁয়ে ব্যবধান ৩-১ এ নিয়ে যান রাফিনহা।

সময় নষ্ট হওয়ায় প্রথমার্ধে ইনজুরি টাইমে হয় আর ১০ মিনিট। এই যোগ করা সময়ের শেষ ভাগে দিয়ে আরও একটি গোল হজম করে ফেলে রিয়াল। কর্নার থেকে বল নিয়ে পাল্টা আক্রমণে রচনা করেন লামিয়ে ইয়ামাল। দুর্দান্ত পাসে বল পাঠিয়ে দেন রাফিনহার কাছে। বক্সের কাছাকাছি গিয়ে রাফিনহা এনে বল বাড়ান অ্যালেজান্দ্রো বালদের দিকে। চমৎকার শটে গোল ব্যবধান ৪-১ এ নিয়ে যান বালদে।

ম্যাচের ৪৮ মিনিটে মার্ক কাসাদোর কাছ থেকে বল পেয়ে রাফিনহা আক্রমণে উঠেন। আন্তোনিও রুডিগার ও চুয়ামেনিকে বোকা বানিয়ে দাপুটে এক শট নেন। সেই শট দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না কোর্তোয়ার। ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-১ এ। লড়াইয়ের বয়স এক ঘণ্টা পূর্ণ হতেই ডি-বক্সের কাছাকাছি ফ্রি-কিক পেয়ে যায় রিয়াল। গাভির বদলে নামা দ্বিতীয় গোলরক্ষক ইনাকি পেনা রুখতে পারেননি রদ্রিগোর সেই গতিময় শট। সান্ত্বনার আরেক গোলে ব্যবধান কমিয়ে মাঠে ছাড়ে রিয়াল।

ইকুয়েডরেকে বিদায় করে রাউন্ড অব সিক্সটিনে মেক্সিকো

জার্মানি জাপান নেদারল্যান্ডসের বিদায়ের দিনে ব্রাজিলের আনন্দ

বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরে দাঁড়ালেন ডাচ কোচ

থ্রি লায়ন্সের আক্রমণ বনাম লিওপার্ডদের রক্ষণ

ডাগআউটের গ্র্যান্ডমাস্টার ‘ডন’ কার্লো!

জোড়া গোলে সুইডেনকে বিদায় করে মেসির পাশে এমবাপ্পে

টিভির পর্দায় ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ম্যাচসহ আরো যত খেলা

জার্মানির গোল ছিনতাই হয়েছে-বলছেন থিয়েরি অঁরি

জার্মানি এখন আর প্রথম সারির দল নয় : নাগলসম্যান

‘ব্রাজিল হারবে’ বলায় অর্থনীতিবিদ ক্লেমেন্তকে নেইমারের খোঁচা