দেশের জনপ্রিয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলতি বছর হচ্ছে না। পর্যাপ্ত সময়ের অভাব ও বিপিএলের বিদ্যমান কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে এক বছরের বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরলেও, বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ আসর নিয়মিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারির আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আজ মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিপিএল স্থগিতের খবর শুনে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিপিএল হচ্ছে এটা তিনি জানতেনই না, ‘আমি তো আপনাদের কাছ থেকে মাত্র শুনলাম । আমি তো জানতাম না যে তারা খেলবে না।’
বিপিএলের মতো দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বন্ধ থাকা অনুচিত উল্লেখ করে তিনি আরো যোগ করেন, ‘বিপিএলটা যেহেতু অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি টুর্নামেন্ট আমাদের বাংলাদেশের জন্য। আপনি বলছেন যে বিসিবি সভাপতি যৌক্তিক কিছু কারণ তুলে ধরেছেন। আমার কাছে মনে হয় এই ধরনের টুর্নামেন্টগুলো প্রতি বছর হওয়া উচিত।’ এ সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘কেন বিপিএল হচ্ছে না, আমার মনে হয় কথা বলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের খেলাগুলো যেন নিয়মিত হয়, এই ব্যাপারে আমরা নজরদারি করব।’
বিসিবি সূত্রের খবর, তাড়াহুড়ো করে কোনো আয়োজন না করে আগামী বছর থেকে নতুন ও আধুনিক কাঠামোতে বিপিএল নিয়ে মাঠে নামতে চায় তারা। মূলত গত দুই আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক দায়বদ্ধতা, চুক্তির শর্ত, ব্যাংক গ্যারান্টি ও খেলোয়াড়দের পাওনা সংক্রান্ত নানা জটিলতায় বিসিবির বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসান হয়েছিল।
এদিকে বিপিএল বাতিল হওয়ায় দেশের ক্রিকেটারদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি ভাবাচ্ছে আয়োজকদের। এ ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পুরুষ ও নারী—উভয় ক্রিকেটের প্রথম শ্রেণি, ওডিআই এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ঘরোয়া ম্যাচ ফি বাড়িয়েছে বিসিবি। পাশাপাশি একটি নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে খেলোয়াড়দের সংগঠন ‘কোয়াব’-ও বিসিবির এই বিরতির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। বিসিবি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এ অবস্থান আগামী আসরকে আরো গোছানো ও নিয়মিত করার পথ সুগম করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।