চলতি বছরে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিগত কয়েক আসরের পরিচালনাগত ও আর্থিক লোকসান বিবেচনা করে তড়িঘড়ি করে কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন না করে, পুরো টুর্নামেন্টটি নতুন করে গুছিয়ে ফেরানোর পরিকল্পনা করছে বোর্ড। তবে বিসিবির এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে গভীর অনিশ্চয়তা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটাররা।
বিপিএল স্থগিতের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটাররা, যারা মূলত পুরো বছর ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোর পারিশ্রমিকের ওপর নির্ভর করে চলেন। সম্প্রতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও (ডিপিএল) খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় ক্রিকেটারদের মধ্যকার অসন্তোষ আরো বেড়েছে।
এমন অবস্থায় সার্বিক সংকট ও খেলোয়াড়দের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে আগামীকাল বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। এই বৈঠকে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত মুখ এবং ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, বিসিবি সভাপতির সঙ্গে আলোচনার আগে ক্রিকেটাররা নিজেরা আলাদা একটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বসব, তার আগে নিজেদের মধ্যে কথা বলে নেব। ক্রিকেটাররা তাদের সুবিধা-অসুবিধা ও চাওয়া-পাওয়ার কথা জানাবে। শুধু বিপিএল নয়, পুরো ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুম ও পারিশ্রমিক সংকট নিয়ে কথা বলা হবে।’
জাতীয় দলের বাইরে থাকা অধিকাংশ ক্রিকেটারের মূল উপার্জনের উৎস বিপিএল ও ডিপিএল। তাই বিপিএল বাতিল হলেও ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিকল্প কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব বিসিবির কাছে উপস্থাপন করবে কোয়াব।