এজবাস্টনে যখন পাকিস্তানের ইনিংস পরাজয় প্রায় নিশ্চিত, তখনই ব্যাট হাতে পাল্টা আঘাত হানলেন অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ। ইংল্যান্ডের গতিময় বোলিং আক্রমণের সামনে ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ে ৬৩ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। নয়টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস টেস্টে অভিষিক্ত ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার যৌথ রেকর্ড। তাঁর ব্যাটেই ইনিংস পরাজয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দিতে পেরেছে পাকিস্তান।
ব্যাটিংয়ের পুরো সময়টাতেই রাজাউল্লাহর মুখে ছিল হাসি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনেও জানালেন নিজের সেই অনুভূতির রহস্য। মূলত ব্যাটিংটা উপভোগ করেই সাফল্যের দেখা পেয়েছেন জানিয়ে রাজাউল্লাহ বলেন, ‘দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানোর মুহূর্তটা আমি উপভোগ করেছি। আমি জীবনটা উপভোগ করতে পছন্দ করি এবং সেই মুহূর্তটাকে উপভোগ করছিলাম।’
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও ওপেনার হিসেবে সেঞ্চুরি করার অভিজ্ঞতা আছে রাজাউল্লাহর। পেশোয়ারের হয়ে প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ৫৮ রান করার পর কোচের কাছে ওপরে ব্যাট করার সুযোগ চেয়েছিলেন তিনি। ওপেন করতে নেমেই পেয়েছিলেন তিন অঙ্কের দেখা। তবে এজবাস্টনের চ্যালেঞ্জ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। জোফরা আর্চার, গাস অ্যাটকিনসন ও জশ টংয়ের শর্ট বল সামলাতে হয়েছে তাঁকে। যে ধরনের বল পুরো সফরেই পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলেছে, সেগুলোকেই উল্টো আক্রমণ করেছেন রাজাউল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘কোন বলগুলোতে বড় শট খেলব, সেটা বেছে নিচ্ছিলাম। তবে সব বলই আমার নাগালের মধ্যে মনে হচ্ছিল। আমি যতটা সম্ভব ইনিংসটা টেনে নিতে চেয়েছিলাম। গতির বলে আমি ভয় পাইনি। আর্চার যখন হার্ড লেংথে বল করেছে, সেগুলো শাস্তি দিতে চেয়েছি। দেশের হয়ে খেললে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি শুধু সময়টা উপভোগ করছিলাম।’
এত জোরে শট খেলেছেন যে ইনিংসের মধ্যে দুটি ব্যাটও ভেঙে ফেলেন রাজাউল্লাহ। নয়টি ছক্কায় ইংল্যান্ডের ফিল্ডারদের অনেকটাই দর্শকে পরিণত করেন তিনি। শর্ট বলকেই নিজের পছন্দের বল উল্লেখ করে রাজাউল্লাহ বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে আমার প্রিয় বল শর্ট বল। আমি নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম, ৫০টি বল খেলতে পারলে ইতিবাচক কিছু একটা হবে। সৌভাগ্যক্রমে সেটাই হয়েছে।’