ঐতিহ্যবাহী পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচ এখন দুই বা তিন দিনেই শেষ হয়ে যাওয়া এক নতুন স্বাভাবিক চিত্রে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ কিংবা ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের একাধিক ম্যাচ দুই দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার পর লাল বলের ক্রিকেটের আয়ু নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্কাই স্পোর্টসের এক আলোচনায় ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল আথারটন টেস্ট ম্যাচের এই দ্রুত পরিণতির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও সাদা বলের প্রভাব
টি-টোয়েন্টি ও একদিনের ক্রিকেটের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে এখনকার ব্যাটারদের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। টেস্ট ক্রিকেটেও এখন রক্ষণাত্মক ভঙ্গির চেয়ে দ্রুত রান তোলার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ইংল্যান্ডের ‘বাজবল’ শৈলীর মতো আক্রমণাত্মক কৌশল ম্যাচকে দ্রুত এগিয়ে নিলেও, বাড়তি ঝুঁকি নেওয়ার কারণে উইকেটের পতনও ঘটছে দ্রুত গতিতে।
ডিআরএস ও প্রযুক্তির সুফল
ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম বা ডিআরএসের ব্যবহার বোলারদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। অতীতে মাঠের আম্পায়ারের যে সিদ্ধান্তগুলোতে সংশয় থাকত, তা এখন প্রযুক্তির সহায়তায় নির্ভুলভাবে ধরা পড়ছে। বিশেষ করে বল-ট্র্যাকিং ব্যবস্থার কারণে এলবিডব্লিউ আউটের সংখ্যা বিগত দশকের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালুর পর প্রতিটি পয়েন্টের গুরুত্ব বেড়ে গেছে। ফলে দলগুলো নিষ্প্রাণ ড্র করার চেয়ে জয় তুলে নেওয়ার প্রতি বেশি মরিয়া। রেজাল্ট নিশ্চিত করতে স্বাগতিক দলগুলো এমন উইকেট তৈরি করছে যা বোলারদের শুরু থেকেই অতিরিক্ত সুবিধা দেয়।
১৯৭০-এর দশকে প্রায় ৭৮% এবং ১৯৯০-এর দশকে ৬৮.৬% টেস্ট ম্যাচ পঞ্চম দিনে গড়ালেও, ২০২০-এর দশকে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪১.৪৩%-এ। ১৯৯০-এর দশকে তিন দিন বা তার কমে শেষ হওয়া ম্যাচের হার ছিল মাত্র ৬.৯৮%, যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ২৩%-এর বেশি। ১৯৪৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫৪ বছরে একটি টেস্ট ম্যাচও দুই দিনে শেষ হয়নি, অথচ গত এক দশকেই এমন ঘটনা ঘটেছে ৯ বার।
পরিসংখ্যান এবং মাইকেল আথারটনের বিশ্লেষণ স্পষ্ট করে তুলে ধরে যে, মানসিকতা, প্রযুক্তি ও পিচের ধরন পরিবর্তন হওয়ায় টেস্ট ক্রিকেট তার পুরোনো ধারা থেকে বের হয়ে এক দ্রুতগতির নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।