আলোকস্বল্পতার কারণে ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা ১ ঘণ্টা কম হয়েছে। চা বিরতির পরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২ উইকেটে ৪৫ রান যোগ করতে পেরেছে টাইগাররা। তাতে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬ উইকেটে ৭৯ রান। তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের লিড ১০৬ রানের।
৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে মধ্যাহ্নবিরতির পর ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় সেশনের প্রথম ওভারেই লিটন দাসকে হারায় বাংলাদেশ। রিভিউ নিয়েও এলবিডব্লিউয়ের হাত থেকে বাঁচতে পারেননি লিটন। ৪ রান করে আউট হয়েছেন জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে।
দলের বিপদে হাল ধরতে পারেননি মেহেদী মিরাজ। প্রথম ইনিংসের মতোই ওয়ারিক্যানের বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি। ড্রেসিংরুমে ফেরার আগে ৯ রান করেছেন মিরাজ।
৫৩ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর নাঈম হাসানকে নিয়ে ২৬ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল হকের কনকাশন সাব হিসেবে মাঠে নামা জাকের আলী। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ২৯তম ওভার শেষে আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। ওই আলোকস্বল্পতার কারণেই আর খেলা মাঠে গড়ানো সম্ভব হয়নি। সমান ১৮ রান করে অপরাজিত আছেন জাকের এবং নাঈম।
এর আগে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিন ব্যাট করতে নেমে দিনের প্রথম আধা ঘণ্টা কোনো উইকেটে হারায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন ত্যাগনারায়ন চন্দরপল। ফিফটির পরেই স্লিপের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। শরিফুলের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৫৬ রান করেন চন্দরপল।
চন্দরপলের বিদায়ের পর ষষ্ঠ উইকেটেও ৫১ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের স্পিন সামলে ভালোভাবেই এগোচ্ছিলেন রস্টন চেজ এবং জাস্টিন গ্রিভস। তবে প্রথম সেশনের শেষ ওভারে গ্রিভসকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন নাঈম হাসান। ফিফটি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থাকতে আউট হয়েছেন গ্রিভস।
প্রথম সেশনে রস্টন চেজকেও ফেরাতে পারত বাংলাদেশ।তবে নাঈমের বলে সিলি পয়েন্টে ক্যাচ মিস করেছেন মুমিনুল হক। ক্যাচটা তেমন সহজ না থাকলেও অসম্ভবও ছিল না।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুটাও ইতিবাচক ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সেশনের প্রথম ১৪ বলে তারা চার মেরেছিল ৪টি। তবে দাপট বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি উইন্ডিজ। জশুয়া বিশপকে ফিরিয়ে লাগাম টানেন মেহেদী মিরাজ।
এরপর শেষ ৩টি উইকেটই নিয়েছেন নাঈম হাসান। একই ওভারে ফেরান শামার জোসেফ আর জোমেল ওয়ারিক্যানকে। জোসেফ নাঈমের শর্ট বলে উইকেটকিপার লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন। ওয়ারিক্যানও আউট হয়েছে শর্ট বলে, এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে। শেষ ব্যাটার জেইডন সিলসকে মিড অফে মিরাজের ক্যাচ বানান নাঈম।
ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছেন নাঈম। এই ৪ উইকেট নেয়ার পথে টেস্টে ৫০ উইকেট পূর্ণ হয়েছে তার। বর্তমানে তার উইকেট ৫২টি। বলের হিসাবে বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে দ্রুততম ৫০ উইকেট নিয়েছেন।।
প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান করেছিল বাংলাদেশ।