পাকিস্তানের সমর্থকরা প্রশ্ন করতেই পারেন। এই পিচেই কি ব্যাটিং করেছেন বাবর আজমরা? উত্তরটা যদি হ্যাঁ হয়। তাহলে পাকিস্তান ক্রিকেটের অনুরাগীরা বিস্ময় নিয়ে নিশ্চিত বলবেন, বোলিং স্বর্গ পিচ হঠাৎ কিভাবে ব্যাটিং বান্ধব হয়ে গেল। এজবাস্টনের যে উইকেটে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৩৩ রানে। অতিথিদের অলআউট করতে ইংল্যান্ডের লেগেছে মাত্র এক সেকশনের একটু বেশি সময়। তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিনে কোনোমতে মধ্যাহ্নভোজ পেরিয়ে গিয়েছিল সফরকারীরা। এরপর আর দেরি হয়নি খুব একটা। পাকিস্তানের সব ব্যাটসম্যানরা ফেরেন সাজঘরে। ব্যাটিং করেছেন তারা সব মিলিয়ে ৩৩.৫ ওভার। কোচ পাল্টানোর সঙ্গে দলে সাত পরিবর্তন এনেও মাঠের লড়াইয়ে সেই পুরনো 'নাটক'ই যেন মঞ্চায়ন করে দেখালেন শান মাসুদরা। দ্রুত ড্রেসিংরুমে ফেরার তাড়া যে ফের পেয়ে বসেছে তাদের।
বিপরীতে ইংল্যান্ড ঘরের মাঠে চেনা ছন্দটাই ধরে রেখেছে। যে উইকেটে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা টিকতে পারেননি দেড় সেশনও। ক্রিকেটের সেই মঞ্চেই ইংলিশরা ব্যাটিং চালিয়ে যাচ্ছেন বেশ দাপটের সঙ্গেই। প্রথম দিন শেষে প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান তুলে ফেলেছে জো রুটের দল। মাত্র ৩৮ ওভার ব্যাটিং করে লিডও নিয়ে ফেলেছে স্বাগতিকরা। সন্দেহ নেই বড় লিডের পথে হাঁটছে ইংল্যান্ড। ১৪ উইকেট পতনের দিনে এমিলিও গে ও হ্যারি ব্রুকের দারুণ দুটি ফিফটিতে ইংল্যান্ড এগিয়ে ২৩ রানে। এমিলিও ৬০ চমৎকার এক ইনিংস খেলে বিদায় নিলেও ক্রিজে এখনো টিকে আছেন ব্রুক। ৫২ রান নিয়ে দ্বিতীয় সকালে ব্যাটিং করতে নামবেন তারকা এ ব্যাটসম্যান। ৫ রান নিয়ে তাকে সঙ্গ দেবেন ড্যান লরেন্স।
তার আগে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা পড়ে গিয়েছিলেন ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে। পাকিস্তানের বোলিং দৃঢতায় ৩৯ রানেই খুইয়ে ফেলেছিল তারা ৩ উইকেট। চতুর্থ উইকেট জুটিতে হ্যারি ব্রুক ও এমিলিও গের ১০৪ রানের চমৎকার জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের জার্সিতে ২টি উইকেট শিকার করেছেন রাজাউল্লাহ। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলি।
পাকিস্তানের ইনিংস মূলত সংক্ষিপ্ত করে দেন পেস জশ টাং। তার শিকার ৪ উইকেট। অলি রবিনসন ও জোফ্রা আর্চার নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। অভিজ্ঞ সৌদ শাকিলই একা লড়াই চালান। ২৬ রানে চার উইকেট হারানো পাকিস্তানের হাল ধরে ৪৭ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলে তিনিই ছিলেন দলের একমাত্র ব্যাটার যিনি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছেন।