ভারত-শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে হচ্ছে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এবারের আসরে বাংলাদেশের না খেলা নিয়ে হয়েছে নানা নাটকীয়তা। দাবি না মেনে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন না করায় বিশ্বকাপ বয়কট করে বিসিবি। এ সিদ্ধান্তের পর সে সময়ের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। পরে দায়িত্ব ছাড়ার দিন বলেন, এটি সরকারের সিদ্ধান্ত নয়। বিসিবি ও ক্রিকেটাররা মিলে বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে এ বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে ফেসবুকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন আসিফ নজরুল।
এ ইস্যু নিয়ে আজ ফের কথা উঠলে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সমালোচনা করেন জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ‘উনি খাড়ার ওপর এরকম মিথ্যা কথা বলবেন আমি আসলে ভাবতেও পারছি না। আমি কীভাবে আসলে ছেলেদের সামনে মুখ দেখাব। উনি একজন শিক্ষক মানুষ, ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষক এভাবে মিথ্যা বলবেন, আমরা আসলে এটা মানতে পারছি না।’
অথচ দায়িত্ব শেষ করার দিন করা মন্তব্য নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি বলেছি, আক্ষেপের প্রশ্নই আসে না। এরপর আমি যা বোঝাতে চেয়েছি, তা আমার কথার প্রেক্ষিত ও অন্তর্গত বার্তাকে উপলব্ধি না করে উপস্থাপিত হওয়ার কারণে কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে অপ্রস্তুত আলাপে বিষয়টি ভালো করে না বুঝিয়ে বলতে পারার ব্যর্থতা এখানে স্বীকার করে নিচ্ছি। আবারও দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে। কিন্তু সরকারের এ সিদ্ধান্ত বোর্ড ও ক্রিকেটাররা মেনে নিয়েছে। না হলে এ সিদ্ধান্তে অটুট থাকাটা হয়তো এতটা সহজ হতো না।’
আসিফ নজরুলের সমালোচনার পাশাপাশি গতকাল ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। সালাউদ্দিনের কথায়, ‘আমি তো জানি আমার দুজন খেলোয়াড় কোমায় চলে গিয়েছিল। পাঁচদিন ধরে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল তারা। আমরা তাদের (অদম্য কাপ) টুর্নামেন্ট দিয়ে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছিÑওটাই বেশি। এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য আমার জীবনে। একটি দলকে আপনি এক সেকেন্ডে নষ্ট করে দিয়েছেন।’
ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরানোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল জানিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘ওদের পাশে আমাদের থাকাটা খুব বেশি জরুরি ছিল। আমার যে টুর্নামেন্টটা হয়েছে, আমি একটি দিনও টেকটিক্যাল কোনো কথাই বলিনি ওদের সঙ্গে। কারণ, আমার পক্ষে আসলে তাদের বোঝানোটা সম্ভব নয়। তাদের মাঠে ফেরানোটা হয়েছে আমার আসল কাজ।’
শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলা হলে বাংলাদেশের জন্য ভালো করার সুযোগ ছিল বলে বিশ্বাস করেন সালাউদ্দিন। জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ বলেন, ‘এখন আফসোস করে তো লাভ নেই। টি-টোয়েন্টি দল হিসেবে আমাদের দল অনেক গোছানো ছিল এবং এই বিশ্বকাপ ঘিরে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আমার মনে হয় উইকেটটাও আমাদের ফেভারে ছিল। সব দিক দিয়ে আমার মনে হয়, আমাদের ভালো করার সুযোগ ছিল।’