ম্যাকাই টেস্টের দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতিতে যেতে যেতে বাংলাদেশের মুখটা ছিল থমথমে। ১০৭ রানে পিছিয়ে থেকে, তিন উইকেট হারিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরা দলটার সামনে এখন প্রশ্ন একটাই- এই টেস্ট বাঁচানো যাবে তো? নাকি প্রথম দিনের ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার সেই দুঃস্বপ্নই আবার ফিরে আসছে? অস্ট্রেলিয়া যেভাবে জয়ের গন্ধ পাচ্ছে, তাতে দিনের বাকি সময়টা বাংলাদেশের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকে থাকার লড়াই।
সকালের সেশনটা অবশ্য শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের পক্ষেই। ক্যামেরন গ্রিন আর নাথান লায়নকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া লিড বাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল ১৪৬ রানে, কিন্তু শেষ দুই উইকেট তুলে নিতে বাংলাদেশের বেশি সময় লাগেনি। এই ম্যাচে শরিফুল ইসলাম যেন অন্য এক চরিত্রে হাজির হয়েছেন। দারুণ ইনসুইং ইয়র্কারে গ্রিনকে এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে ফেরান। ৬৭ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের ইনিংস। এই উইকেট দিয়েই শরিফুলের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৭ উইকেট ৪৮ রানে- বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। লায়ন অপ করে অপরাজিত ৩২ রান করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস টেনে নিয়ে যান ২১০ রানে।
১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা হয় একেবারেই বিপর্যয়কর। মিচেল স্টার্কের পরপর দুই আঘাতে ফিরে যান দমান আর মুমিনুল, ইনিংসের ভিতটাই কেঁপে ওঠে শুরুতে। তানজিদ আর শান্ত মিলে যখন পরিস্থিতি একটু সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই তানজিদ নিজের উইকেটটা বিলিয়ে দেন এক দায়সারা পুল শটে খেলে। শান্ত অবশ্য একা লড়ে যাচ্ছেন। কিছু নজরকাড়া স্ট্রোকে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন উইকেট এতটাও কঠিন নয়, ব্যাটসম্যানের সংকল্পটাই আসল কথা।
লাঞ্চের পর বাংলাদেশের সামনে যে চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, তা এই সিরিজের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। এখনো ১০৭ রানে পিছিয়ে থাকা দলটার হাতে আছে সাত উইকেট, আর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমসহ পরের ব্যাটসম্যানদের এখন বড় ইনিংস খেলার পালা। রান তাড়া করা নয়, লক্ষ্য এখন কেবল টিকে থাকা। ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কাটা মাথার ওপর ঝুলছে, আর সেটা এড়াতে হলে শান্তর সঙ্গী হয়ে কাউকে না কাউকে লম্বা সময় উইকেটে কাটাতেই হবে।
ম্যাচ কি তৃতীয় দিনে গড়াবে, নাকি দ্বিতীয় দিনেই নেমে আসবে যবনিকা— সেই উত্তর মিলবে বিকেলের সেশনেই। তবে শরিফুলের এই বীরত্বগাথা প্রমাণ করে দিয়েছে, ব্যাটিংয়ে যত বিপর্যয়ই আসুক, লড়াই করার সাহসটা এই দলের এখনো ফুরিয়ে যায়নি।