ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট নিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। নিজেদের মাঠে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়ার এমন অসহায় আত্মসমর্পণ নিয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতা থেকে শুরু করে একাদশ নির্বাচনÑসবকিছুই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। অনেক প্রতিবেদনে এই হারকে অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাঠের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ ডটকম ডট এইউ’ সরাসরি শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাদেশ ঐতিহাসিক জয় পাওয়ায় অপদস্থ অস্ট্রেলিয়া’। তাদের ম্যাচ বিশ্লেষণে বাংলাদেশের আধিপত্য এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ভঙ্গুরতা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’ আরো কড়া ভাষা ব্যবহার করেছে। তাদের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘বাংলাদেশের কাছে বিব্রতকরভাবে হারল ছন্দহীন অস্ট্রেলিয়া’। আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ডারউইন টেস্টে ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে দিল বাংলাদেশ’।
বিখ্যাত ‘ফক্স ক্রিকেট’ও অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স নিয়ে সরব। তাদের বিশ্লেষণের শিরোনাম হলোÑ‘অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টেস্ট অঘটনের পর নির্বাচকদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হবে’। প্রতিবেদনে দলের ব্যাটিং ও বোলিং নিয়ে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। আরেক প্রতিবেদনে ফক্স ক্রিকেট লিখেছে, ‘কয়েকজন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারের সামনে এখন দলে জায়গা ধরে রাখার শেষ সুযোগ’। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়নেও বেশিরভাগ অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারের ব্যর্থতা তুলে ধরা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘এবিসি’ও হারের পর দলটির ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামÑ‘বাংলাদেশের কাছে অপ্রত্যাশিত হার অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটকে দীর্ঘমেয়াদি নানা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে’। ম্যাচের প্রথম দিনই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং নিয়ে এবিসি লিখেছিলÑ‘দুর্দান্ত বাংলাদেশের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ভঙ্গুর ব্যাটিং লাইনআপ উন্মোচিত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিংয়ের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ভঙ্গুর ব্যাটিং লাইনআপের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনার বড় জায়গা ছিল দলের টপ অর্ডার। দুই ইনিংসেই ব্যাটারদের ব্যর্থতা, দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে থাকতে না পারা এবং বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হওয়াকে হারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফক্স ক্রিকেটও ম্যাচের পর অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারকে দ্রুত সমাধান খোঁজার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে।