হতাশার এক ত্রিদেশীয় সিরিজ পার করে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। এমন সিরিজের পর এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে মাঠে নামছে টাইগাররা। ম্যাচ শুরুর দুই দিন আগে প্রস্তুতির সার্বিক অবস্থা ও মাঠ ও মাঠের বাইরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ ফিল সিমন্স।
সিরিজে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানাতে গিয়ে সিমন্স বলেন, 'আমি এখানে গতকাল রাতে এসেছি। এখনও উইকেট দেখিনি। এই সিরিজে আমার প্রত্যাশা থাকবে কঠোর পরিশ্রম। আমি একটি কঠিন সিরিজের প্রত্যাশা করছি, কারণ ভারত যাওয়ার আগে তারা দেশের মাঠে দুটি সিরিজ খেলেছে এবং বেশ ভালো খেলেছে। তাই এটি একটি কঠিন সিরিজ হবে বলেই আমার ধারণা।'
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই সিরিজটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যস্ত থাকায় ওয়ানডে ও টেস্ট- উভয় দলে খেলা কয়েকজন ক্রিকেটারের প্রস্তুতিতে যোগ দিতে অনেকটা দেরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিকে 'আদর্শ নয়' বলে উল্লেখ করে সিমন্স বলেন, 'আমরা পুরো দলটিকে পাইনি কারণ আমরা একটি সিরিজের মাঝপথে ছিলাম। আমরা একটি ত্রিদেশীয় সিরিজের মাঝপথে ছিলাম এবং কাকতালীয়ভাবে আমাদের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়, যারা ওয়ানডে ও টেস্ট দুটোই খেলে, তারা সেখানে ব্যস্ত ছিল। এটি পুরোপুরি আদর্শ পরিস্থিতি নয়, তবে ছেলেরা বসে ছিল না, তারা ক্রিকেট খেলছিল। তাই এখনও অনেক কিছু করার আছে। পুরো স্কোয়াড হিসেবে সবকিছু একসাথে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের কাছে কেবল এই দুই দিন সময় আছে।'
তবে নিজেদের সেরটা দিতে সিমন্স এবং তার দল প্রস্তুত দাবি করে তিনি বলেন, 'আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে প্রস্তুত এবং আমরা যখনই কোনো ম্যাচের প্রস্তুতি নিই, ঠিক এই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করি এবং এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। যেমনটা আমি আগেই বলেছি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দেশের মাঠে তাদের শেষ দুটি টেস্ট সিরিজে ভালো খেলেছে। তারা এইমাত্র ভারত থেকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে এসেছে, তাই তাদের অনেকেই ক্রিকেট খেলার মধ্যে রয়েছে। তাই এটি একটি কঠিন বিষয় হতে চলেছে, তবে আমরা কেবল আমাদের সেরা খেলাটি খেলার জন্যই প্রস্তুত।'
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শুরুর ৩ দিন আগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের পদ থেকে মোহাম্মদ আশরাফুলকে সরিয়ে মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে আপদকালীন হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। সিরিজ শুরুর ঠিক আগে টিম ম্যানেজমেন্টের এমন সিদ্ধান্ত ন্যায্য কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তরটা এড়িয়ে যান হেড কোচ। বলেন, 'আমার মনে হয় না, এটি আমাকে করার মতো কোনো প্রশ্ন।'
ব্যাটিং কোচের অপসারণ ছাড়াও ম্যাচের দুইদিন আগে ৫ সিনিয়র ক্রিকেটার ও টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিসিবি বস তামিম ইকবাল। এসব বৈঠক কিংবা কোচ বাদ দেয়ার কারণে বিশৃঙ্খল পরিস্থতি খেলায় কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তরে সিমন্স বলেন, 'ম্যাচের আগে কি এটাই প্রথম কোনো বিশৃঙ্খলা? না, তাই তো? প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই বছরের শুরুতে আমরা যে সিরিজগুলো খেলেছিলাম, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাইরে কী ঘটছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, দল হিসেবে আমরা কেমন প্রস্তুতি নিচ্ছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলাম। মিটিংটি মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে আমাদের কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সে বিষয়ে ছিল। আর এটি একটি অত্যন্ত ভালো মিটিং ছিল, যেখানে আমরা আলোচনা করেছি কীভাবে তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশ ঘটানো যায় এবং অন্যান্য বিষয়ে কীভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়া যায় এটি কোনো বাধা ছিল না (প্রস্তুতির জন্য), কারণ এটি সিরিজ নিয়ে ছিল না।'
সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠের সবগুলো টেস্ট সিরিজে অনবদ্য পারফর্ম করেছেন নাহিদ রানা। ইনজুরির কারণে তাকে এই সিরিজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তবে নাহিদের অভাবটা অন্য কেউ পূরণ করবে বলে বিশ্বাস সিমন্সের, 'দলে যখন নাহিদের (নাহিদ রানা) মতো প্রতিভা থাকে, তখন আপনি তাকে মিস করবেন এবং আমরা তাকে মিস করেছি।মনে রাখবেন, নাহিদকে ছাড়াই আমরা অস্ট্রেলিয়ায় জিতেছি, ঘরের বাইরে গিয়ে জিতেছি। নাহিদকে ছাড়াও আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আমরা তাকে মিস করব, হয়তো কেউ তার স্থলাভিষিক্ত হবে এবং তার যে কাজটি করার কথা, সে সেই কাজটিই করবে। হয়তো ঠিক ততটা গতিতে নয়, তবে তারা ঠিকই কাজটি করে দেখাবে।'
ইনজুরির কারণে লিটন দাসের এই সিরিজে খেলা নিয়ে এখনও শঙ্কা রয়েছে। লিটনের ইনজুরির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে সিমন্স বলেন, 'যতদূর জানি, লিটন কুমার অ্যাভেইলেবল আছেন। আগামী দুই দিনে যদি পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়, তবে আমি আপনাদের সবাইকে জানিয়ে দেব, এই মুহূর্তে তিনি আছেন।'