হোম > খেলা > ক্রিকেট

বাংলাদেশের কাছে আত্মসমর্পণে পরিবর্তনের ডাক হেইডেনের

স্পোর্টস ডেস্ক

বাংলাদেশের কাছে ডারউইনে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়া দলে বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। ১৪৯ বছরের টেস্ট ইতিহাসে নিজেদের অন্যতম বিব্রতকর হারের পর সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ম্যাথু হেইডেন সরাসরি বর্তমান ব্যাটিং লাইনআপে পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, দলের প্রথম তিন ব্যাটারকে নিয়েই নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। একই সঙ্গে ট্রাভিস হেডকে তিন নম্বরে তুলে এনে ওপেনিংয়ে নতুন মুখ ফেরানোর পক্ষে তিনি।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে শুরু থেকেই যেন ছন্দহীন ছিল অস্ট্রেলিয়া। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। সবুজাভ উইকেটে শুরুতে বাংলাদেশের পেসারদের কাজে লাগানোর সুযোগ থাকলেও সেই সুবিধা নেয়নি স্বাগতিকরা। ফলও আসে দ্রুত। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৪২৬ রান। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ১৩৮ ওভার ব্যাট করে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ১২২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে যখন দল বিপাকে, তখন ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটে আসে ১০৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। তার লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৫৭ রানের লক্ষ্য দিতে সক্ষম হয়। যা খুব সহজেই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।

এই পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন হেইডেন। চ্যানেল সেভেনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি মনে করেন, শুধু একজন-দুজনকে বাদ দিলেই হবে না; ব্যাটিং অর্ডারেই বড় পরিবর্তন প্রয়োজন। হেইডেনের চোখে সবচেয়ে বড় সমস্যা তিন নম্বর জায়গাটি। দীর্ঘদিন ধরে ফর্মহীন মার্নাস লাবুশেনকে নিয়ে তার প্রশ্ন, ‘তিন নম্বর জায়গাটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। মার্নাস লাবুশেন দুই বছর ধরে যে ফর্মে আছে, সেটা কী রাতারাতি পরিবর্তন হবে? তাই লাবুশেনকে সরিয়ে ট্রাভিস হেডকে তিন নম্বরে খেলানোর প্রস্তাব দিয়েছেন সাবেক এই ওপেনার। তার ভাষায়, ‘আমি হলে ট্রাভিস হেডকে তিন নম্বরে খেলাতাম। এরপর ওপেনিংয়ে নতুন করে ভাবতাম এবং সেখানে কিছু পরিবর্তন আনতাম।’

হেইডেনের পরিকল্পনায় ওপেনিংয়ে অভিজ্ঞতা ও স্থিরতা সবচেয়ে জরুরি। আর সেই জায়গায় তার প্রথম পছন্দ ম্যাট রেনশ, ‘আমি ওপেনিংয়ে অভিজ্ঞতা চাই। আমি ম্যাট রেনশকে দেখতে চাই। অন্তত ১২ মাস ধরে আমি এটা বলে আসছি। আমার মনে হয় সে ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত। নির্বাচকরা জানেন সে কী করতে পারে, কিন্তু এখন আমি জানতে চাই, সে আসলে কী করতে পারে।’

রেনশর নাম অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে নতুন নয়। ৩০ বছর বয়সি এই ব্যাটার সর্বশেষ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেস্ট খেলেছেন। টেস্টে তার গড় ২৯.৩১। তবে সাম্প্রতিক শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে ৪৯.৯০ গড়ে ৪৯৯ রান করে আবারও নির্বাচকদের নজরে এসেছেন তিনি। পাশাপাশি লেগ স্পিনে উন্নতি করায় রেনশ ফিরলে অধিনায়ক কামিন্স বাড়তি বোলিং বিকল্পও পেতে পারেন।

তবে হেইডেনের ভাবনায় শুধু রেনশই নন, তরুণ স্যাম কনস্টাসও আছেন। ২০২৪ সালের বক্সিং ডে টেস্টে ভারতের বিপক্ষে অভিষেকে মাত্র ৬৫ বলে ৬০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে আলোচনায় এসেছিলেন কনস্টাস। এরপর অবশ্য প্রত্যাশা অনুযায়ী ধারাবাহিক হতে পারেননি। পাঁচ টেস্টে তার গড় মাত্র ১৬.৩০। তবু ২০ বছর বয়সি এই ব্যাটারের ওপর আস্থা রাখার পক্ষেই হেইডেন। অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকরাও যে তাকে পুরোপুরি ভুলে যাননি, তার প্রমাণ প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশের বিপক্ষে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশে তার সুযোগ পাওয়া।

অন্যদিকে অ্যালেক্স ক্যারিকে পাঁচ নম্বরে খেলানোর সিদ্ধান্তও পছন্দ নয় হেইডেনের, ‘আমি অ্যালেক্স ক্যারিকে পাঁচ নম্বরে নামতে দেখতে চাই না।’

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের কাছে ডারউইনের পরাজয় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং কাঠামো নিয়েই নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দ্বিতীয় টেস্টের আগে নির্বাচকদের সামনে এখন বড় সিদ্ধান্ত। তারা বর্তমান ব্যাটিং লাইনআপে আস্থা রাখবেন, নাকি হেইডেনের পরামর্শ মেনে একসঙ্গে একাধিক পরিবর্তনের পথে হাঁটবেন সেটাই দেখার।

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান হচ্ছেন বিচারপতি আসাদুজ্জামান

গ্যাস সংকটের সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায়, ভোগান্তিতে ফুলবাড়ীয়ার মানুষ

ইয়াবাসহ আটক কৃষকদল নেতা কারাগারে, দল থেকে বহিষ্কার

ইরানের স্কুলে আঘাত হানা টমাহক উৎপাদনে ২২.৯ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

মতলব উত্তরে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২

পাঁচ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার, ব্যয় হবে প্রায় ১১০০ কোটি টাকা

হাটহাজারীতে ধাওয়া করে তরুণকে গুলি করে পালাল অস্ত্রধারীরা

ডারউইনে স্মিথ-লিটনের কথার উত্তাপ

কাঁচা মরিচ ও টমেটোর ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার

সৃজনকলা গুণীজন সম্মাননা পেলেন আফজাল হোসেন