অস্ট্রেলিয়ার টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে ফাইনালে ওঠা হলো না বাংলাদেশ হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের। ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমির কাছে সেমিফাইনালে ১ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ইরফান শুক্কুরের দল।
২০২৪ সালের প্রথম আসরে রানার্সআপ হয়েছিল বাংলাদেশ এইচপি। পরের আসরে টেবিলের নবম স্থানে থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবার শিরোপার সম্ভাবনা জাগিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ চারে এসে মাত্র ১০১ রানে অলআউট হওয়ায় সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
ডারউইনের গার্ডেন ওভালে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরের জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশার আরেকটি অধ্যায়। ৬ ম্যাচের মধ্যে চারবার এক অঙ্কের রানে আউট হওয়া এই উইকেটকিপার-ব্যাটার সেমিফাইনালেও রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন।
বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য খুব একটা খারাপ ছিল না। ২.৪ ওভারে দলীয় সংগ্রহ ২৬ রান হলেও এরপরই ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান মাত্র ৩ রান করে আউট হন। এরপর জিসান আলম ও আরিফুল ইসলাম ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। জিসান করেন ৩০ রান, আরিফুলের ব্যাট থেকে আসে ১৯। কিন্তু তাদের বিদায়ের পর আর কোনো জুটি দাঁড়াতে পারেনি।
আবদুল গাফফার সাকলাইন ১৬ বলে ১০ এবং আবু হায়দার রনি ১৮ বলে ১২ রান করেন। তবে দলের অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার সাব্বির রহমান, শামিম পাটোয়ারি ও অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারও খেলতে পারেনি বাংলাদেশ এইচপি। ১৭.১ ওভারেই মাত্র ১০১ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।
ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট একাডেমির বোলারদের মধ্যে উইল সাদারল্যান্ড সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। আরও তিনজন বোলার দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
মাত্র ১০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভিক্টোরিয়া। দলীয় ১ রানেই প্রথম উইকেট হারায় তারা। এরপরও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়ার দলটি। তবে ছোট ছোট ইনিংসে লক্ষ্যপূরণের দিকে এগিয়ে যায় তারা। একসময় ম্যাচ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
বিশেষ করে বাংলাদেশের রহস্য স্পিনার মোহাম্মদ রুবেলের ঘূর্ণিতে চাপে পড়ে যায় ভিক্টোরিয়া। রুবেল ৩টি উইকেট নিয়ে জয়ের আশা জাগিয়ে তুলেছিলেন। শামিম পাটোয়ারিও নেন ২ উইকেট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্য ম্যাচটি হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের। ক্যাম্পবেল ক্যালাওয়ের ২৩ রান ছিল ভিক্টোরিয়ার ইনিংসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। শেষ পর্যন্ত ২ বল হাতে রেখেই ১ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে তারা।