হোম > খেলা > ক্রিকেট

যে সম্ভাবনা ও সমীকরণের সামনে বাংলাদেশ

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল

স্পোর্টস রিপোর্টার

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের পরই বাংলাদেশের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছিল। ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টটিও যদি বাংলাদেশ জিততে পারত, তাহলে অস্ট্রেলিয়াকে টপকে ডব্লিউটিসির পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ উঠে যেত তৃতীয় স্থানে। অস্ট্রেলিয়া নেমে যেত চতুর্থ স্থানে।

কিন্তু সেটি হয়নি। ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে, র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থানও ধরে রেখেছে। বাংলাদেশ রয়ে গেছে চতুর্থ স্থানে।

ডব্লিউটিসির ফাইনালে উঠবে দুটি দল। বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা হলো, তাদের ওপরে থাকা অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড প্রত্যেকেই পয়েন্ট শতাংশের হিসাবে প্রায় ২০ শতাংশ এগিয়ে। তার ওপর এই চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের হাতে বাকি মাত্র ছয়টি টেস্ট। এর মধ্যে দুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। বাকি চারটি ম্যাচের দুটি করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়বে বাংলাদেশ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সামনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনটি এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি টেস্ট।

তাহলে ফাইনালে যেতে বাংলাদেশকে কী করতে হবে?

আপাতত সবচেয়ে সহজ সমীকরণটি এমন—

১. দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারাতে হবে।

২. ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে চার টেস্টের অন্তত দুটিতে জিততে হবে বাংলাদেশকে।

৩. অস্ট্রেলিয়াকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জিততে হবে।

৪. অস্ট্রেলিয়াকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে জিততে হবে।

এই চারটি ফল হলে তবেই বাংলাদেশ ডব্লিউটিসির ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা থাকছে। তবে ফাইনালের জন্য সেটাও চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ নয়। সমীকরণটি শুনতে কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।

তবে এখানেই শেষ নয়। এই সম্ভাবনার পথে অনেকগুলো যদি এবং কিন্তু আছে! শুনি সেগুলো সম্পর্কে।

ধরি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ ২-০-তে জিততে পারল না। একটি টেস্ট জিতে অন্যটি ড্র করল। তখন বাংলাদেশের সম্ভাবনার সমীকরণ অনেক বেশি জটিল হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি টেস্টই জিততে হবে বাংলাদেশকে। পাশাপাশি ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনায় থাকা অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের অন্য ম্যাচগুলোর ফলও প্রায় পুরোপুরি বাংলাদেশের পক্ষে যেতে হবে।

আর যদি দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সিরিজ ১-১ ড্র করে বাংলাদেশ, তখন?

সেক্ষেত্রে সহজ উত্তর হলো, এই চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার বাংলাদেশের আর কোনো সুযোগ থাকবে না।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি টেস্ট হারলেই বাংলাদেশ ছিটকে যাবে। দুই টেস্টই ড্র করলেও বাদ। অর্থাৎ সিরিজ ০-০ হলে, বাংলাদেশকে আর ফাইনালের দৌড়ে রাখা যাবে না। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডকে ২-০ করে হারালেও বাংলাদেশের ফাইনাল নিশ্চিত নয়। কারণ অস্ট্রেলিয়া যদি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩-০ ব্যবধানে হারায় এবং পরে নিউজিল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে হারায়, তাহলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে।

অর্থাৎ, বাংলাদেশের ভাগ্য এখন পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেই।

সবচেয়ে সম্ভাব্য কী?

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়াই বড় ফেভারিট। চারটি টেস্টেই জিতে ৪-০ করা তাদের জন্য অসম্ভব কিছু নয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিউজিল্যান্ডের টেস্ট জয়ের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। এমনকি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ৩-১ জয়ও কিছুটা অঘটন হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজটি হতে পারে একেবারেই হাড্ডাহাড্ডি। এখানে ফল অনুমান করা কঠিন। অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে, আবার ২০১৮ সালে হেরেছেও। এবারও অস্ট্রেলিয়া ৩-০ জিততে পারে, আবার দক্ষিণ আফ্রিকাও ৩-০ জিততে পারে। ২-১, ১-২ কিংবা ১-১, যেকোনো ফলই সম্ভব।

বাংলাদেশের নিজেদের ম্যাচগুলোর কী অবস্থা?

তিনটি সিরিজের মধ্যে তুলনামূলক সহজ বাংলাদেশের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ। র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিদেশের মাটিতে খুব একটা স্বচ্ছন্দ নয়। তবে তাদের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশকে নিজেদের সেরা ক্রিকেটই খেলতে হবে। সেটা করতে পারলে সিরিজ ২-০ জেতার যথেষ্ট সুযোগ আছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও জেতার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো, সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অনেক কঠিন। ইংল্যান্ড ২-০ জিততে পারে, কিংবা একটি ম্যাচ জিতে অন্যটি ড্র করতে পারে। ঘরের মাঠেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্ট জয় বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হবে। তবে সেটি অসম্ভব নয়।

তবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কঠিন সিরিজটি নিঃসন্দেহে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ফাইনালে ওঠার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা ধরে রাখতে হলে এই সিরিজটিই বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু এক ম্যাচ জিতলেই হবে না, জিততে হবে ২-০ ব্যবধানে।

ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে দ্বিতীয় টেস্ট হারের পর বাংলাদেশের ফাইনালের পথ অনেক কঠিন হয়ে গেছে। এখন আর সবকিছু তাদের নিজেদের হাতে নেই। এমনকি বাংলাদেশ বাকি ছয়টি টেস্টই জিতলেও ফাইনাল নিশ্চিত হবে না। অন্য ম্যাচগুলোর ফলও তাদের পক্ষে আসতে হবে।

তাই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টে বাংলাদেশকে সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপাতে হবে। দুটি জয়ই হতে পারে ফাইনালের দরজা খোলার একমাত্র বাস্তব চাবি। সম্ভাবনা কঠিন। সমীকরণ আরো কঠিন। অন্য ম্যাচের ফলের ওপরও নির্ভর করতে হবে।

তবু সুযোগ যখন একেবারে শেষ হয়ে যায়নি, তখন চেষ্টা না করার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশকে অন্তত লড়াইটা করুক। অন্তত চেষ্টাটুকু যেন থাকে।

কোমর থেকে পায়ের ব্যথা

শিশুর স্ক্রিন আসক্তি

পাকিস্তানে হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু

দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে ঝুঁকি বেশি

শিশু মৃত্যুর তদন্তে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, দুই সদস্য ক্লোজ

চোরাই মোটরসাইকেলসহ দুজন গ্রেপ্তার

মার্কিন পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা কানাডার

প্লে-ব্যাকের অপেক্ষায় অনুপমা মুক্তি

হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে জেলে নিহত, আহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে ইরান