হোম > খেলা > ক্রিকেট

প্রোটিয়া ও অজিদের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই

কেপটাউনের উইকেটে রোমাঞ্চের মহাকাব্য

স্পোর্টস ডেস্ক

কেপটাউনের নিউল্যান্ডস স্টেডিয়াম—যেখানে টেবিল মাউন্টেনের ছায়া পড়ে ২২ গজে, সেখানে ইতিহাস আর আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটের রোমাঞ্চ যেন এক সুতোয় মিলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তৃতীয় টেস্টটি কেবল একটি ক্রিকেট ম্যাচ নয়, বরং এটি ধৈর্যের পরীক্ষা, প্রতি আক্রমণ আর ক্ষণে ক্ষণে বদলে যাওয়া এক স্নায়ুযুদ্ধের নাম।

ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের দৃঢ়তায়। টস হেরে উইকেটে নেমে প্রোটিয়া ব্যাটাররা অজি পেস আক্রমণকে শুরুতেই যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে, ম্যাচ সহজে ছাড়া হবে না। মার্ক্কেস অ্যাকারম্যান মাত্র ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেও তার ৯৫ রানের ইনিংসটি ছিল নান্দনিকতায় ভরপুর। এছাড়া ডেভিড বেডিংহামের ফিফটি দলকে নিয়ে যাচ্ছিল এক নিরাপদ ঠিকানায়।

কিন্তু ক্রিকেট বড়ই অদ্ভুত এক খেলা। মুহূর্তের ব্যবধানে দৃশ্যপট পাল্টে দিলেন মিচেল স্টার্ক। অজি এই পেস সেনসেশন যেন তখন উইকেটের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন। ৭২ রান খরচ করে একে একে ৬টি উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। ৩২৯ রানে থেমে যায় প্রোটিয়াদের প্রথম ইনিংস।

পাহাড়সম চাপের মুখে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া দেখাল তাদের চ্যাম্পিয়ন মানসিকতা। প্রথম ইনিংসে ৪২৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ম্যাচে চালকের আসনে বসে অজিরা।

দলের এই রথযাত্রার মূল কারিগর ছিলেন জস ইংলিশ। তার ব্যাট থেকে আসে চোখ জুড়ানো এক সেঞ্চুরি (১০২)। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারি (৮০)। ক্যামেরন গ্রিনের ৬৫ রানের ইনিংসটি অজিদের লিডকে আরও সুদৃঢ় করে। দক্ষিণ আফ্রিকার সাইমন হারমার (৪ উইকেট) ও মার্কো ইয়ানসেন (৩ উইকেট) যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও অজিদের এই রানের পাহাড় ভাঙতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাদের।

প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়ার পর অনেকেই হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকাকে খর্বশক্তি বলে ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট যে ফুরিয়ে যাওয়ার আগে বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লেখে, সেটাই প্রমাণ করল প্রোটিয়া শিবির।

দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেটে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা এক অদৃশ্য প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। উইকেটে পেরেক ঠুকে যেন দাঁড়িয়ে যান উইয়ান মুল্ডার ও রিয়ান রিকেলটন। মুল্ডারের মহাকাব্যিক ১১৫ রান এবং রিকেলটনের লড়াকু ১০১ রানের সেঞ্চুরি দুটি ম্যাচটির চিত্র পুরোপুরি বদলে দেয়। অ্যাকারম্যানের আরও একটি দায়িত্বশীল ইনিংস (৬২) দলের লিডকে নিয়ে যায় এক নিরাপদ ও রোমাঞ্চকর উচ্চতায়।

কেপটাউনের এই মহাকাব্যিক টেস্ট এখন এমন এক পর্যায়ে এসে ঠেকেছে, যেখানে প্রতিটি বল একটি উপন্যাসের নতুন অধ্যায়ের মতো। অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণাত্মক মানসিকতা বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার হার না মানা জেদ—সব মিলিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা পেলেন এমন এক টেস্ট ম্যাচ, যা যুগের পর যুগ মনে রাখার মতো!

ভারতকে হারাল পাকিস্তান

শ্রীলঙ্কার কাছে হার বাংলাদেশের, হংকং সিক্সেসে কঠিন সমীকরণ

‘বল হাতে আমি বোলার, ব্যাট হাতে ব্যাটার’- নাঈম

রেকর্ড গড়ে ভারতকে হারাল নিউজিল্যান্ড

আলোকস্বল্পতায় আগেই শেষ হলো খেলা, বাংলাদেশের লিড ১০৬ রানের

আলোক স্বল্পতায় খেলা বন্ধ, ৭৫ রানে ৬ উইকেট নেই

ঢাকা টেস্টে বিপদে বাংলাদেশ

নাঈমের ঘূর্ণিতে ২৪৫ রানে অলআউট ওয়েস্ট ইন্ডিজ

স্পিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে সামনে বাড়ছে উইন্ডিজ

ছোট পর্দায় বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টের সঙ্গে থাকছে পিএসজির ম্যাচ