আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আইসিসি ও প্রভাবশালী কিছু ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তে দ্বৈত মানদণ্ডের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা বিশ্ব ক্রিকেটের ভারসাম্য ও ন্যায্যতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
স্কাই স্পোর্টসের একটি পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে নাসের বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনায় নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। কোনো দল শেষ মুহূর্তে সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলে আইসিসি যে কঠিন অবস্থায় পড়ে, সে বিষয়টি তিনি স্বীকার করলেও প্রশ্ন তুলেছেন—এই কঠোরতা কি সব দেশের ক্ষেত্রেই সমানভাবে দেখানো হয়?
নাসের হুসেইনের ভাষায়, “যখন কোনো দল দেরিতে এসে বলে তারা সফর করতে পারবে না, তখন আইসিসির প্রতি কিছুটা সহানুভূতি থাকে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো—এই নিয়ম কি সব দলের জন্য একইভাবে প্রয়োগ করা হবে? এর উত্তর কেবল আইসিসিই দিতে পারে।”
আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়েই মূলত বড় প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যদি কোনো শক্তিশালী দেশ, বিশেষ করে ভারত, বিশ্বকাপের এক মাস আগে জানায় যে সরকার অনুমতি দিচ্ছে না নির্দিষ্ট কোনো দেশে খেলতে, তখন আইসিসির অবস্থান কী হবে? সেক্ষেত্রে কি একই রকম কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, নাকি বাস্তবতা ভিন্ন হবে—এই প্রশ্নই তুলেছেন নাসের।
তিনি আরও বলেন, “সব পক্ষই একটাই জিনিস চায়—সামঞ্জস্য ও ধারাবাহিকতা। নিয়ম থাকলে সেটা সবার জন্যই সমান হওয়া উচিত।”
বর্তমান সংকটের পেছনের সূত্রপাত নিয়েও কথা বলেন নাসের হুসেইন। তার মতে, বিষয়টি শুরু হয়েছিল একটি তুলনামূলক ছোট সিদ্ধান্ত থেকে। মুস্তাফিজুর রহমান আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াডে থাকলেও, হঠাৎ করে বিসিসিআই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার চলমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তাকে দল থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
নাসের বলেন, “এই সংকট কোথা থেকে শুরু হয়েছে, সেটা বোঝা জরুরি। মুস্তাফিজ কলকাতার স্কোয়াডে ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই বিসিসিআই তাকে সরিয়ে নেয়। ওই একটি সিদ্ধান্তই তুষারের বলের মতো গড়িয়ে বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, বোর্ড পর্যায়ের এসব সিদ্ধান্ত মাঠের ভেতরের আচরণেও প্রভাব ফেলছে। হ্যান্ডশেক না করা, ট্রফি গ্রহণে অনীহা কিংবা ম্যাচ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাগুলো ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
নাসের হুসেইনের আশা, ভবিষ্যতে আইসিসি ও ক্রিকেট প্রশাসন এমন নীতিমালা গ্রহণ করবে, যা সব দেশের জন্য ন্যায্য, স্বচ্ছ ও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে—যাতে ক্রিকেট মাঠের বাইরের সিদ্ধান্তে আর মাঠের ভেতরের সৌহার্দ্য নষ্ট না হয়।