রশিদ খানের বলের লাইন খানিকটা পরিবর্তন হওয়ায় হুট করে রিভার্স সুইপের চেষ্টা চালান মুহাম্মদ আরফান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওই ব্যাটারের খানিকটা ব্যাকফুটে থাকায় শেষ পর্যন্ত হয়নি ওই রিভার্স সুইপ। হিট আউট হয়ে তাকে ফিরতে হয় প্যাভিলিয়নে। আফগানরা তখন উল্লাসে মাতেন রশিদ খানকে ঘিরে। এটা শুধুই উইকেট পতনের উল্লাস নয়, প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৭০০ উইকেট শিকারের কীর্তি। তার এমন কীর্তির দিনে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে আফগানিস্তান।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অবিশ্বাস্য কিছু করতে পারেননি রশিদ খান। খানিকটা সাদামাটাভাবে এগোচ্ছিলেন। সেই সাদামাটা পারফরম্যান্স ছিল গতকাল দিল্লিতেও আরব আমিরাতের বিপক্ষে। ২৪ রানে তার শিকার ছিল এক উইকেট। আর এই উইকেটই তাকে দিয়েছে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৭০০ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়ার রেকর্ড।
৭০০ উইকেট নিতে মোট ৪৩২ ব্যাটারকে আউট করেছেন রশিদ খান। সবচেয়ে বেশি রায়ান বার্ল ও শিমরন হেটমায়ারকে আউট করেছেন। এই দুই ব্যাটারকে আটবার করে আউট করার কীর্তি আছে তার। এছাড়া তিন দেশের মাটিতে একশর বেশি উইকেট শিকার করার রেকর্ড আছে তার নামের পাশে।
তার এই রেকর্ডের দিনে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৬০ রানে থামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইনিংস। আগে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দুই ওভারে ১৩ রানে দুই উইকেট হারায় আমিরাত। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন আলিশান শারাফু ও শোয়েব খান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৮৪ রান যোগ করেন তারা দুজনে। তাতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় দলটি। শারাফু ৪০ রানে ফিরলে ভাঙে এই জুটি। পরে শোয়েব ৬৮ রানে ফেরেন প্যাভিলিয়নে।
পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর কোনো ব্যাটার বড় স্কোর করতে পারেনি। ফলে ১৬০ রানে থামে আমিরাতের ইনিংস। আফগানিস্তানের হয়ে ১৫ রানে ৪ উইকেট নেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
জবাবে, দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারায় আফগানিস্তান। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ফেরেন রানের খাতা খোলার আগেই। সেখান থেকে আফগানদের একা হাতে টেনে তোলেন ইব্রাহিম জাদরান। ৪১ বলে খেলেন ৫৩ রানের ইনিংস। মূলত তার ওই ইনিংসই নিশ্চিত করে দেয় আফগানদের জয়ের পথ। পরে শেষদিকে ব্যাট হাতে ২১ বলে ৪০ রানের ঝোড়ো এক ইনিংস খেলেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। এছাড়া দারউইশ রাসুলি ২৩ বলে করেন ৩৩ রান। তাতে ৪ বল আগে জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান।
আমিরাতের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন জুনায়েদ সিদ্দিকী ও মোহাম্মদ আরফান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সংযুক্ত আরব আমিরাত : ১৬০/৯, ২০ ওভার (শোয়েব ৬৮, আলিশান ৪০, ওমরজাই ৪/১৫)
আফগানিস্তান : ১৬২/৫, ১৯.২ ওভার (ইব্রাহিম ৫৩, ওমরজাই ৪০*, জুনায়েদ ২/৩৩)
ফলাফল : আফগানিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : আজমতউল্লাহ ওমরজাই।