আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে অভিষেকের দিন যেকোনো ক্রিকেটারের জন্যই স্মরণীয় ও স্বপ্নের মতো। অফ স্পিনার আলিস আল ইসলামের সামনেও ছিল নিজের অভিষেক ম্যাচটিকে দারুণভাবে রাঙিয়ে নেওয়ার সুযোগ। কিন্তু সেই স্বপ্নের শুরুতেই নেমে এল ঘোর কালো মেঘ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার প্রথম দিনেই বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ২৯ বছর বয়সী এই স্পিনার।
শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছে আলিসের। তবে ম্যাচটি চলাকালীনই তার বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে রিপোর্ট করেছেন দায়িত্বরত ম্যাচ কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইসিসির বিধিমালা অনুযায়ী, বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আলিসকে এখন আইসিসি স্বীকৃত কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নিজের অ্যাকশনের আনুষ্ঠানিক বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষার ফলাফলে অ্যাকশন বৈধ প্রমাণিত হলেই কেবল পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং করার অনুমতি পাবেন তিনি।
তবে আলিস আল ইসলামের ক্যারিয়ারে এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটেও একাধিকবার তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে রাতারাতি আলোচনায় উঠে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই রোমাঞ্চকর অভিষেকের পরই তার অ্যাকশন নিয়ে প্রথম বিতর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের বিপিএলেও তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে পুনরায় সন্দেহ প্রকাশ করেন আম্পায়াররা।
ঘরোয়া আসরের সেই পুরানো বিতর্ক এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তাড়া করল আলিসকে। ক্যারিয়ারের শুভসূচনার লগ্নেই এমন আইনি ও কারিগরি জটিলতায় পড়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন এই টাইগার স্পিনার।