অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বেশি অবাক হননি যিনি, তিনি শন টেইট। বাংলাদেশ দলের সাবেক পেস বোলিং কোচ ক্রিকইনফোকে বলেছেন, তিনি জানতেন এই বোলিং আক্রমণ যেকোনো কন্ডিশনে দাঁড়াতে পারবে। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করা টেইট বলেন, বোলিংয়ের এই পারফরম্যান্সে তিনি অবাক হননি, তবে ভেবেছিলেন অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাটিংটাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—প্রথম টেস্টে ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত করেছে দলটি। প্রথম টেস্ট জেতার কথা না ভাবলেও বাংলাদেশের এই দলটির লড়াকু মানসিকতা নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না তার। এই সিরিজে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে শন টেইট বলেছেন, বাংলাদেশের এই বোলিং আক্রমণ যেকোনো কন্ডিশনেই পারফর্ম করার সক্ষমতা রাখে।
গত ছয় বছরে বাংলাদেশের পেস বোলিং যেভাবে শক্তি সঞ্চয় করেছে, তার প্রতিফলন এখন মাঠেই স্পষ্ট। নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তানের পর এবার অস্ট্রেলিয়াতেও টেস্ট জয়। ধারাভাষ্যকার হিসেবে দীর্ঘদিন সফরসঙ্গী থাকা বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার আতহার আলী খানের চোখে এই বদল একেবারেই স্পষ্ট। ক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের উন্নতি, বিশ্বাস আর অর্জন বর্ণনা করতে ‘লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে যাওয়া’ ছাড়া আর কোনো শব্দ মাথায় আসে না তার। মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এলেও উন্নতির জায়গা এখনো আছে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে হাসান মাহমুদ আর শরিফুল ইসলামকে নিয়ে বিশেষভাবে আশাবাদী টেইট। তার বিশ্বাস, হাসান হয়তোবা মাঝেমধ্যে ইনজুরিতে পড়তে পারেন। কিন্তু তার কার্যকর ও মিতব্যয়ী অ্যাকশন তাকে দীর্ঘদিন সফল রাখবে। কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেলে তা হাসান ও বাংলাদেশ ক্রিকেট, দুইয়ের জন্যই ভালো হবে বলে মত তার। শরিফুলের সঙ্গে টেইটের পরিচয় এবং সম্পর্কটা আরো পুরোনো। বিপিএলে নিজের দলে শরিফুলকে পেয়েছিলেন বোলিং কোচ টেইট। টেইটের ভাষায়, শরিফুলকে নিয়ে কাজটা ছিল মূলত মানসিক দিক নিয়ে, কারিগরি নিয়ে নয়। খারাপ স্পেলের পর নিজেকে দোষ দেওয়ার প্রবণতা কাটিয়ে দ্রুত পরের স্পেলে মনোযোগ ফেরানোই ছিল তাদের কাজের মূল জায়গা। সেই শেখাটা ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে সাফল্যের পথ ধরে টেস্ট র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ এখন চারে। তবে এই অবস্থান ধরে রাখা সহজ হবে না। পেসারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়, কারণ হাসান-শরিফুল-তাসকিনদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে ক্রমশ। পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে ব্যাটিং ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, স্পিন ও পেস সহায়ক দুই ধরনের কন্ডিশনেই মানিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য বাড়ানো এবং তরুণ পেসারদের কাউন্টি বা বিদেশি লিগে খেলিয়ে অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করাটাও জরুরি। সবচেয়ে বড় কথা, মানসিক দৃঢ়তার এই সংস্কৃতি ধরে রাখতে হবে টানা কয়েকটি সিরিজে, একটি-দুটি সাফল্যেই যেন আত্মতুষ্টি না আসে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই যাত্রা তাই এখন আর কেবল চমক নয়, বরং ধারাবাহিকতার পরীক্ষা। মাঠের বাইরে থেকে যারা এই দলকে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন, তাদের কথাতেই স্পষ্ট, বিশ্বাসটা এখন আর অলীক স্বপ্ন নয়।
তথ্যসূত্র: ক্রিকইনফো