অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের অন্যতম নায়ক হাসান মাহমুদ। ডারউইন টেস্টে বল হাতে একাই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছেন এই পেসার। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১১ রান খরচ করে নিয়েছেন ৯ উইকেট। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। পরে দ্বিতীয় ইনিংসেও গুরুত্বপূর্ণ ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করার পথে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন হাসান। এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা টেস্ট বোলিং। দ্বিতীয় ইনিংসেও দুই ওপেনার ও লড়াইয়ের পথে থাকা ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে দেন তিনি। সব মিলিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠে তার হাতে। তবে এমন সাফল্যের পেছনে ব্যক্তিগত কোনো বিশেষত্ব নয়, বরং দলের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন হাসান। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘ম্যাচের আগে অনুশীলনে আমরা প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মাথায় একটি বিষয়ই ছিল যা-ই হোক না কেন, নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে, প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ফলাফল নিয়ে ভাবা যাবে না। ৫ দিন খেলতে হবে, তারপরই ফলাফল আসবে।’
কিন্তু ৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। সাড়ে ৩ দিনেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এ সাফল্যের পেছনে প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণের কথাও জানিয়েছেন হাসান। তার ভাষায়, ‘দলের খেলোয়াড় ও কোচদের সঙ্গে বসে আমরা কিছু দলীয় পরিকল্পনা করেছি। ভিডিও দেখেছি, আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, সেগুলো বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা করেছি। এরপর মাঠেও ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি।’
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে প্রথম দিন পেসারদের জন্য উইকেটে কিছুটা সহায়তা ছিল। সে সুবিধা কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেটই তুলে নেন বাংলাদেশের পেসাররা। হাসান নেন ৬টি, তাসকিন আহমেদ ২টি এবং ইবাদত হোসেন ২টি উইকেট। উইকেট থেকে সহায়তা পাওয়া গেলেও সেটিকে কাজে লাগানোর জন্য বোলারদের ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন হাসান। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক বোলারই দারুণ ধৈর্য দেখিয়েছে। যে প্রক্রিয়াটা অনুসরণ করার কথা ছিল, সেটাই করেছে। শুধু সঠিক লাইন ও লেংথে বল করে যেতে হবে এবং একই জায়গায় আঘাত করে যেতে হবে। শেষ পর্যন্ত তার ফলাফল এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি।’
অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্সের পর দেশের মানুষের প্রতিক্রিয়াও অনুভব করছেন হাসান। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই তারা (বাংলাদেশের সমর্থকরা) আমার জন্য খুব খুশি হবে। আমার শহরের মানুষজনও নিশ্চয়ই খুব খুশি হবে। আমি বাংলাদেশে ফেরার পর তারা উদযাপন করবেন।’