মাত্র ১৪২ রানের লক্ষ্য। ওয়ানডে ক্রিকেটে এমন লক্ষ্য সাধারণত খুব একটা কঠিন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটাররা সেই সহজ সমীকরণকেই পরিণত করলেন দুঃস্বপ্নে। টপ অর্ডারের ভয়াবহ ব্যর্থতা, মাঝপথে জুটির ভাঙন আর শেষদিকে অসহায় আত্মসমর্পণে হারারেতে প্রথম ওয়ানডেতে ২৫ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সফরকারীদের। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে সুবিধা করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। মাত্র ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। কিন্তু সেই ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই নিজেদের বিপদ ডেকে আনে বাংলাদেশ।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। ৬ বলে ৮ রান করা এই ওপেনারের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সৌম্য সরকারও। ১০ বলে ৬ রান করে আউট হন তিনি। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হন। মাত্র ৭ বলে ৩ রান করে ফিরলে ১৭ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। চতুর্থ উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান তারা। তবে ৫৮ বলে ২৫ রান করে হৃদয় বিদায় নিতেই আবারও ছন্দ হারায় সফরকারীরা।
এরপর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত মাত্র ৩ রান করে আউট হন। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও করতে পারেননি বড় কিছু; তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১০ রান। শেষ ভরসা সোহানও ৪৪ বলে ৩১ রান করে ফিরে গেলে বাংলাদেশের পরাজয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা।
এর আগে বল হাতে বাংলাদেশের নায়ক ছিলেন নাহিদ রানা। শুরুতে রানআউটে ভাঙে বেন কারান ও ব্রায়ান বেনেটের ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর তাসকিন আহমেদ পরপর দুই বলে ব্রায়ান বেনেট ও ক্রেইগ আরভিনকে ফিরিয়ে জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলে দেন।
সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেন নাহিদ। তার গতি ও বাউন্সে একের পর এক ব্যাটার ফিরে যান সাজঘরে। সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্লাইভ মাদানধে এবং ইনোসেন্ট কাইয়াকে শিকার করে জিম্বাবুয়েকে ৭০ রানে ৮ উইকেটের সংকটে ফেলে দেন এই তরুণ পেসার।
তবে নবম উইকেটে রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান নিয়ামুরি ৬৩ রানের মূল্যবান জুটি গড়ে জিম্বাবুয়েকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেন। এনগারাভা ২৭ রান করে আউট হলেও নিউম্যান করেন দলীয় সর্বোচ্চ ৩৩ রান।
নাহিদ শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট শিকার করে গড়েন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। ১৩ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি পাঁচ উইকেট শিকারের তালিকায় এখন তার ওপরে আছেন শুধু মোস্তাফিজুর রহমান।
কিন্তু নাহিদের দুর্দান্ত বোলিংও শেষ পর্যন্ত কোনো কাজে আসেনি। ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় সহজ লক্ষ্য হাতছাড়া করে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হতাশার হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।