অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক টেস্ট জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেটের এই বড় জয়কে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর থেকেই অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন দেশের ক্রিকেটাররা।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ দল যখন মাঠে উদযাপনে ব্যস্ত, ঠিক তখনই দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবালের ফোনে ভিডিও কলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এই জয়ের জন্য পুরো দলকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান তিনি। একইসঙ্গে খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং তারা সুস্থ ও ভালো আছেন কি নাÑসে বিষয়েও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের কথা জানিয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমাদের শরীরের কী অবস্থা, তারও খোঁজ-খবর নিয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সরকারের উচ্চপর্যায় ও ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেও ক্রিকেটারদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে অধিনায়ক নাজমুল জানান বলেন, ‘আমাদের বোর্ড সভাপতি ফোন করেছেন, অভিনন্দন জানিয়েছেন; তিনি অনেক খুশি। সঙ্গে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ফোন করেছিলেন, তার সঙ্গেও কথা হয়েছে এবং অভিনন্দন জানিয়েছেন।’
এই জয়ে সব ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এক অভিনন্দন বার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের শক্তিশালী ক্রিকেট দলের বিপক্ষে মাত্র ৪ দিনে ৯ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় কেবল ঐতিহাসিকই নয়, বরং বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন এক স্বর্ণযুগের সূচনা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে পুরো দল ব্যাটে-বলে যে আত্মবিশ্বাস ও দাপট দেখিয়েছে, তা ১৭ কোটি বাংলাদেশিকে চরম গর্বিত ও আনন্দিত করেছে।’
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরো যোগ করেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্বমঞ্চে জয়ের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের নাম আরো উঁচুতে তুলে ধরবে আশা করি।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের এই ঐতিহাসিক বিজয় দেশের ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাস এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরো এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল।