বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ-বিপিএল। এক সময় যে টুর্নামেন্ট দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে দেখা হয়েছিল, সেটিই এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জন্য বড় প্রশ্নের নাম। কেন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট, যেটি থেকে বোর্ডের আয় হওয়ার কথাÑসেটি আয়োজন করতে গিয়ে উল্টো লোকসান গুনতে হবে? কেন একটি দলকে মাঠে নামানোর আগে তার আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা যাবে না? কেন টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরও ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে বিসিবিকে হস্তক্ষেপ করতে হবে? আর কেন প্রতি বছর বিপিএল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হবে?
এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গেলে একটি বিষয় স্পষ্ট, বিপিএল সমস্যা কোনো একটি মৌসুমে আটকে নেই। সমস্যা এ টুর্নামেন্টের কাঠামোর ভেতরে। সে কারণেই ২০২৬-২৭ মৌসুমে বিপিএল না করার সিদ্ধান্তকে শুধু একটি টুর্নামেন্ট স্থগিত করা নয়। এটি মূলত দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সমস্যাগুলো সামনে রেখে পুরো ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর একটি সুযোগ।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়ে দিয়েছেন, এ বছর বিপিএল হচ্ছে না। তার দেওয়া হিসাবে গত দুই মৌসুমে বিপিএল আয়োজন করে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তার যুক্তি আরো সরল, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বোর্ডের আয় হওয়ার কথা, লোকসান নয়।
তামিমের ব্যাখ্যা পরিষ্কার, তিনি দ্রুত ৫টি দল তৈরি করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারেন। কিন্তু শুধু আয়োজন করার জন্য আয়োজন করবেন না। তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষ্ঠু ক্রিকেট এবং বিসিবির মর্যাদা। প্রয়োজন হলে ৬, ১২ কিংবা ২৪ মাস সময় নিয়েও তিনি বিপিএলকে নতুনভাবে সাজাতে চান।
এখানেই মূল প্রশ্ন : বিপিএল কি সত্যিই বন্ধ রাখা দরকার ছিল? উত্তর খুঁজতে হলে বিপিএলের বদনামের তালিকাটিই আগে দেখতে হবে। চলুন সে প্রসঙ্গে ঘুরে আসি।
ফাঁকিবাজ ফ্র্যাঞ্চাইজি
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রথম শর্ত আর্থিক সক্ষমতা। যে প্রতিষ্ঠান একটি দল কিনবে, তাকে আগে প্রমাণ করতে হবে যে পুরো মৌসুমের আর্থিক দায় বহনের ক্ষমতা তার আছে। বিপিএলের সাম্প্রতিক চিত্র সে জায়গাতেই বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিসিবির নথি অনুযায়ী, ১২তম বিপিএলের ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রত্যেকের ১০ কোটি টাকা করে নিরাপত্তা জামানত দেওয়ার কথা ছিল। মোট ৬০ কোটি টাকার বিপরীতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বকেয়া ছিল প্রায় ১৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কোথাও ব্যাংক গ্যারান্টির পরিবর্তে চেক, কোথাও আংশিক অর্থ, কোথাও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা জামানতের ঘাটতি ছিল।
অর্থাৎ মাঠে দল ছিল; কিন্তু সে দলের পেছনের আর্থিক ভিত্তিই ছিল দুর্বল।
এটি কোনো ছোটখাটো প্রশাসনিক ভুল নয়। কারণ, একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি যদি শুরুতেই তার আর্থিক দায় পূরণ করতে না পারে, তাহলে টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড়, কোচ, বিদেশি ক্রিকেটার, হোটেল, ভ্রমণ এবং অন্যান্য খরচের নিশ্চয়তা কোথায়? আর সে নিশ্চয়তা দিতে পারেনি বলেই গেল বিপিএলে গাড়ির ড্রাইভার পর্যন্ত গাড়ি চালাতে চাননি! হোটেল থেকে দলকে বের করে দেওয়া হয়েছেÑএমন ঘটনাও সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে!
কাগুজে ব্যাংক গ্যারান্টি, দায় রয়েছে বিসিবিরও
বিপিএলের সবচেয়ে বিব্রতকর সমস্যাগুলোর একটি হলো ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে প্রশ্ন। তামিম ইকবাল নিজেই বলেছেন, নিয়ম যদি ১০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দাবি করে, সেখানে ২ কোটি টাকার গ্যারান্টি গ্রহণ করা হলে এবং পরে সেই ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলোয়াড়দের টাকা না দিলে শেষ পর্যন্ত বিসিবিকেই দায় নিতে হয়। এই জোচ্চুরি ব্যবস্থা বন্ধ করতে চান বিসিবি সভাপতি। তবে ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে সব ফ্র্যাঞ্চাইজি যে একই বদনাম কুড়িয়েছে, তা কিন্তু নয়। কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যাংক গ্যারান্টির পুরো অর্থ দিয়েছে। তাহলে এ পরিস্থিতিতে বিসিবির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্ন উঠতেই পারে। নিয়ম যদি সবার জন্য একই হয়, তাহলে সেটি ভাঙার সুযোগ বা স্বাধীনতা কেন দু-তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দেওয়া হলো?
যদি নিয়ম প্রয়োগ না করেই দলকে খেলতে দেওয়া হয়, তাহলে নিয়ম থাকার প্রয়োজনটাই বা কী? বিপিএল সংস্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সম্ভবত এখানেই। ভবিষ্যতে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিকে শুধু তার নাম, পরিচিতি, ধান্ধাবাজি বা সম্ভাব্য বাণিজ্যিক আকর্ষণের কারণে নেওয়া যাবে না। অর্থ আগে, দল পরে-এমন সিস্টেমের প্রচলন করতে হবে।
ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে সেই একই গল্প!
বিপিএলের সবচেয়ে পুরোনো বদনাম পারিশ্রমিক নিয়ে।
এক মৌসুমে একটি দল ক্রিকেটারদের টাকা দেয়নি। আরেক মৌসুমে বিদেশি ক্রিকেটারদের পাওনা নিয়ে সমস্যা হয়েছে। কোথাও ক্রিকেটাররা প্রতিবাদ করেছেন, কোথাও বোর্ডকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। এই চক্র বছরের পর বছর কাজ করে চলেছে।
একটি পেশাদার ক্রিকেট লিগে খেলোয়াড়ের পারিশ্রমিক নিয়ে বিতর্ক হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু একই সমস্যা যদি বারবার ফিরে আসে, তাহলে সেটি আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকে না; সেটি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা।
বিপিএলে সেই দুর্বলতা এখন প্রকাশ্য। খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। খেলোয়াড় মাঠে খেলেছে। টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে। তারপরও তার পাওনা পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এরচেয়ে বড় সাংগঠনিক ব্যর্থতার উদাহরণ আর কী হতে পারে?
দুর্নীতি, বিপিএলের বড় ক্ষত:
অর্থনৈতিক অনিয়মের চেয়েও বিপিএলের জন্য ভয়ংকর হলো বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট।
সাম্প্রতিক বিপিএল ঘিরে দুর্নীতি, বেটিং ও ম্যাচের ফল প্রভাবিত করার অভিযোগ নিয়ে বিসিবির তদন্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। এর আগে বিসিবির তদন্তে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড, বেটিং-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ এবং দুর্নীতির প্রস্তাবের মতো বিষয়ও উঠে আসে। আইসিসির তদন্ত কর্মকর্তা অ্যালেক্স মার্শাল তদন্ত শেষে ৮০০ পৃষ্ঠার বিশাল একটি রিপোর্টও জমা দেন বিসিবির কাছে। জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের নামের পাশেও এ টুর্নামেন্টে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে লাল পতাকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল!
একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার দর্শক নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা; তার গ্রহণযোগ্যতা। দর্শক যদি মনে করেন মাঠের ভেতরের ক্রিকেটের বাইরেও অন্য কোনো খেলা চলছে, তাহলে কোটি টাকা খরচ করে স্টেডিয়াম সাজিয়েও সে টুর্নামেন্টের মূল্য বাড়ানো যায় না।
বিপিএলের স্থায়ী কাঠামোই নেই
প্রতি বছরই যেন নতুন করে বিপিএল আবিষ্কার করতে হয়। কখনো দলের সংখ্যা বদলায়। কখনো মালিকানা বদলায়। কখনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বদলায়। কখনো শেষ মুহূর্তে দল নিয়ে সমস্যা হয়। কখনো নতুন নিয়ম আসে। আবার পরের বছর সেটিই বদলে যায়।
এভাবে কোনো স্পোর্টস ব্র্যান্ড তৈরি হয় না।
বিশ্বের সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে দলগুলোর মালিকানা, আর্থিক কাঠামো, বাণিজ্যিক অধিকার, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক এবং পরিচালনা পদ্ধতির একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকে। একটি সুসৃঙ্খল পদ্ধতির মধ্যে থাকে সবকিছু।
বিপিএলে সেই স্থায়িত্বের ঘাটতিই বড় সমস্যা।
বিসিবি নিজেই যখন দায় নিচ্ছে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব অভিযোগ এখন আর শুধু বাইরের সমালোচনা নয়। বিসিবির বর্তমান নেতৃত্বও সমস্যাগুলো স্বীকার করছে। তামিম বলেছেন, কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙা হয়েছে এবং কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ম মানতে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত বিসিবিকেই তার দায় নিতে হয়েছে। তার হিসাবে, গত দুবছরে বোর্ডের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
অর্থাৎ, বিপিএলের ব্যবসায়িক মডেল এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে ঝুঁকি নিচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি, কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যর্থ হলে ক্ষতির বড় অংশ বহন করছে বিসিবি।
এটি কোনো টেকসই ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল হতে পারে না।
৪০ কোটি টাকার হিসাবও হতে হবে স্বচ্ছ
তামিমের ৪০ কোটি টাকা লোকসানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর এ হিসাব নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। এ বিতর্কের সমাধান খুব সহজ। নিরপেক্ষভাবে একটি অডিট করলেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।
বিপিএলে গত দুই মৌসুমে বিসিবির আয় কত? ব্যয় কত? ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কত দিয়েছে? কত টাকা বকেয়া? কত টাকা বোর্ডকে খেলোয়াড়দের পাওনা মেটাতে দিতে হয়েছে? সম্প্রচার স্বত্ব থেকে কত এসেছে? স্পনসরশিপ থেকে কত এসেছে? টিকিট ছাপতে কত টাকা খরচ হয়েছে। টিকিট বিক্রি থেকে আয় কত? সব হিসাব প্রকাশ করা হোক।
তাহলেই বোঝা যাবে ৪০ কোটি টাকার লোকসান কোথায় তৈরি হয়েছে। স্বচ্ছতা ছাড়া বিপিএল সংস্কারের প্রথম দাবিটিই পূরণ হবে না।
তাহলে কি বিপিএল শেষ!
না। তামিমও বিপিএল চিরকালের জন্য বন্ধ করার কথা বলেননি। বরং বলেছেন, এটি ভালো একটি পণ্য এবং মানুষের আগ্রহ আছে। সমস্যা টুর্নামেন্টের ধারণায় নয়, পরিচালনার পদ্ধতিতে।
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। বিপিএল বাতিল করা আর বিপিএলকে ‘চিকিৎসার’ জন্য থামিয়ে রাখা এক কথা নয়। একটি বছর বিরতি নিলে ক্রিকেটাররা কিছুটা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সেটিও বাস্তবতা। কিন্তু একটি অসুস্থ টুর্নামেন্টকে শুধু ক্যালেন্ডারে রাখার জন্য চালিয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি আরো বেশি হতে পারে।
এখন যা প্রয়োজন
১) স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে আর্থিক অডিট করা।
২) ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা দেওয়ার আগে তাদের ভালোভাবে যাচাই করা। কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, মালিকানার উৎস, পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক রেকর্ড এবং অর্থের উৎস যাচাই করতে হবে।
৩) ১০০ শতাংশ কার্যকর ব্যাংক গ্যারান্টি। কাগজে নয়, বাস্তবে।
৪) খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা তাদের ব্যাংক একাউন্টে জমা দিতে হবে।
৫) দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। ম্যাচ ফিক্সি বা স্পট ফিক্সিংয়ের সন্দেহজনক ঘটনা হলে দ্রুত তদন্ত, প্রমাণ সংরক্ষণ এবং শাস্তি, জরিমানা ও বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬) দীর্ঘমেয়াদি ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তি। প্রতি বছর মালিকানা বদলালে ব্র্যান্ড তৈরি হয় না। ফ্র্যাঞ্চাইজিও আর্থিক বিনিয়োগে আগ্রহী হয় না।
৭) বিপিএলের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ। দর্শক ও ক্রিকেটারদের জানার অধিকার আছে তাদের প্রিয় টুর্নামেন্ট কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
৮) বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে পেশাদার করা। এই দায়িত্বে থেকে আগে যারা বির্তকিত বা ব্যর্থ হয়েছে এমন কাউকে আর এই চেয়ারে বসতে না দেওয়া। ক্রিকেট প্রশাসনের পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, আইন, বিপণন এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করতে হবে।
‘অসুস্থ টুর্নামেন্ট’ চালানোর চেয়ে চিকিৎসা জরুরি
বিপিএলে প্রতি বছর নতুন দল এসেছে। জার্সিতে নতুন রঙ লেগেছে। নতুন বিদেশি ক্রিকেটার এসেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে। ম্যাচ হয়েছে। দর্শক এসেছে। বেসুমার টাকা খরচ হয়েছে।
কিন্তু বিপিএল ক্রমশ ‘অসুস্থ’ বিভিন্ন ‘অসুখে’।
ফ্র্যাঞ্চাইজি অর্থ দেয়নি, বিসিবি দায় নিয়েছে। খেলোয়াড় টাকা পায়নি, বোর্ডকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। নিয়ম মানা হয়নি, তবু দল খেলেছে। দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, আবারও তদন্ত হয়েছে।
এরপরও পরের বছর একই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই চক্র ভাঙার জন্যই এবার থামা দরকার।
এক বছর বিপিএল না হলে বাংলাদেশের ক্রিকেট থেমে যাবে না। বরং সে সময়টাকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বচ্ছ, আর্থিকভাবে টেকসই এবং বিশ্বাসযোগ্য লিগ তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতের বিপিএল আরো শক্তিশালী হতে পারে। এক বছর বিপিএলে না হলে ক্রিকেটাররা কিছুটা আর্থিকভাবে বঞ্চিত হবেন। তবে বিপিএল যখন ছিল না, তখনো ক্রিকেটাররা একেবারে না খেয়ে ছিলেন-এমন কিন্তু নয়। বিপিএল বাংলাদেশের ক্রিকেটের বোঝা হওয়ার কথা নয়। হওয়ার কথা সম্পদ।
তাই এখন প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়, ‘এ বছর বিপিএল কেন হচ্ছে না?’ প্রশ্ন হওয়া উচিত, ‘এতদিন কেন এমনভাবে বিপিএল চালানো হলো?’ কার স্বার্থে?
এ প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত মাঠে ফিরে যাওয়ার তাড়া দেখানো উচিত নয়। অসুস্থ টুর্নামেন্টকে বাঁচিয়ে রাখার নাম ক্রিকেট নয়। আগে রোগ নির্ণয়, তারপর চিকিৎসা, এরপর মাঠে ফেরা।
বিপিএলের ক্ষেত্রেও বিসিবির সে পথেই হাঁটা উচিত।
সাহস দেখাবে বিসিবি?