কোয়ার্টার ফাইনালেই সমাপ্তি টানল নরওয়ের বিশ্বকাপ রূপকথার গল্প। ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে নরওয়ে। ফুটবল ইতিহাসে এবারই প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলল তারা। সময়ের সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের দ্যুতি ছড়ানো পারফরম্যান্সেই বিশ্বকাপে নতুন রূপকথার গল্প রচনা করে নরওয়েজিয়ানরা। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়লেও কোনো অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন না হালান্ড। তবে ম্যাচে একটি গোল বাতিল হওয়ায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়েছেন এই তারকা ফুটবলার। ঘটনাটি ঘটেছিল ম্যাচের ৫৫ মিনিটে। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল টোবিয়র্ন হেগেম জালে জড়ান। কিন্তু ভিএআর চেকের পর গোলটি বাতিল হয়। ভিএআরে ধরা পড়ে কর্নারের আগে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করেছিলেন হালান্ড। ম্যাচ শেষে হালান্ড বলেছেন, ‘আমার মনে হয়েছে, আমাকে মাঠে পুরো সময়ই টেনে ধরা হচ্ছিল। সিদ্ধান্তটি ছিল খুবই কঠোর। যদি এটাকে ফাউল ধরা হয়, তা হলে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই আমার ফ্রি-কিক পাওয়ার কথা।’ এই গোলটি বাতিল না হলে ম্যাচের চিত্রনাট্য পাল্টে যেতে পারত। মায়ামিতে প্রচণ্ড গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ার মধ্যে খেলতে হয়েছে, খেলোয়াড়রা ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন। এমন আবহাওয়ার মধ্যে খেলাটা চ্যালেঞ্জের হলেও অজুহাত দাঁড় করাতে চান না হালান্ড। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অজুহাত দিতে চাই না। এমন ম্যাচে ছোট ছোট মুহূর্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। আর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে যায়নি।’
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন হালান্ড। তাই বিশ্বকাপে খেলার সব স্মৃতি আজীবন মনে থাকবে তার। হালান্ড বলেছেন, বিশ্বকাপ ঘিরে ছয়টি সপ্তাহ দারুণ কেটেছে। বিশ্বকাপে খেলার মতো আনন্দ আর কিছুতেই পাননি। যেসব স্মৃতি জমা হয়েছে, সেগুলো আজীবন আগলে রাখবেন। প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই ৭টি গোল করে বড় মঞ্চের তারকা বনে গেছেন হালান্ড। তার দলও প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে। এই বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে বলে বিশ্বাস হালান্ডের। তিনি জানান, ব্রাজিলকে হারানোর মতো ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে নরওয়ে। দলটি দেখিয়ে দিয়েছে, বিশ্বের সেরাদের বিপক্ষে লড়বে জানে তারা। বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে নতুন করে নাম তুলেছে নরওয়ে। এটি তরুণদের জন্য প্রেরণার হবে বলে মনে করেন হালান্ড।