বিশ্বকাপের আগে মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের ঘটনাই বেশি আলোচনায় ছিল ইরানকে ঘিরে। ভিসা জটিলতা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, দলের কর্মকর্তাদের প্রবেশ অনুমতি না পাওয়া—সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তার আবহে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। তবে মাঠে নেমে সব আলোচনা সরিয়ে রেখে দারুণ লড়াই উপহার দিয়েছে ইরান। দুইবার পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলের ড্র করেছে তারা।
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুটা স্বপ্নের মতো ছিল নিউজিল্যান্ডের। ম্যাচের শুরুতেই ক্রিস উড বল ধরে রেখে এলিজা জাস্টের পথে বাড়িয়ে দেন। সুযোগ পেয়ে জোরালো হাফ-ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন মাদারওয়েল ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের আশায় উজ্জীবিত নিউজিল্যান্ড এরপরও বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতিশীল আক্রমণ চালায়।
তবে ম্যাচের গতি বদলে যায় প্রথমার্ধের মাঝামাঝি হাইড্রেশন বিরতির পর। বিরতির আগে থেকেই আক্রমণের ধার বাড়াতে শুরু করেছিল ইরান। দলের তারকা ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে পোস্ট কাঁপিয়ে সমতার খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। অবশেষে সেই চাপের ফল আসে। রামিন রেজায়িয়ানের বুদ্ধিদীপ্ত শট কিউই গোলরক্ষক ম্যাক্স ক্রুকোম্বের নাগালের বাইরে চলে গেলে সমতায় ফেরে ইরান।
গোল পাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি। এমনকি তারা আরেকবার বল জালেও জড়িয়েছিল, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ধীরগতিতে শুরু করলেও আবারও আঘাত হানে নিউজিল্যান্ড। ক্রিস উড ও এলিজা জাস্টের দুর্দান্ত বোঝাপড়া থেকে আসে দ্বিতীয় গোল। উডের সঙ্গে দারুণ সমন্বয়ের পর গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দের মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে জালে পাঠিয়ে দেন। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করে আবারও নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন তিনি।
কিন্তু ইরানও হাল ছাড়েনি। ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা দলটি আবারও সমতায় ফেরার পথ খুঁজে নেয়। রামিন রেজায়িয়ানের নিখুঁত ক্রস থেকে মোহাম্মদ মোহেব্বি দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান। পোস্টের ভেতরের অংশে লেগে জালে ঢুকে পড়া সেই বল নিউজিল্যান্ডের জয়স্বপ্নে আঘাত হানে।
শেষ সময়টায় দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ক্রিস উড ও এলিজা জাস্টের জুটি যেমন নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, তেমনি তারেমিকে সামনে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। ম্যাচে ইরান মোট ১৭টি শট নেয়, নিউজিল্যান্ড নেয় ১৪টি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো দলই জয়সূচক গোল খুঁজে পায়নি।
ফলে ২-২ সমতায় শেষ হয় রোমাঞ্চকর এই লড়াই। একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে মিশর ও বেলজিয়াম ১-১ গোলে ড্র করায় গ্রুপ ‘জি’-এর চার দলই এখন এক পয়েন্ট করে নিয়ে সমান অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্বকাপের আগে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে যাদের অংশগ্রহণ নিয়েই অনিশ্চয়তা ছিল, সেই ইরান মাঠে প্রমাণ করেছে তারা শুধু উপস্থিতি জানাতেই আসেনি। দুইবার পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা দেখিয়েছে, চাপের মধ্যেও লড়াই করার মানসিকতা তাদের হারিয়ে যায়নি।