ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে বিশ্বকাপে ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশসম। তবে পর্তুগালের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন বর্তমান সময়ের অন্যতম এই ফুটবলার। কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ম্যাচে তার নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে তাকে শুরুর একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠলেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
ম্যাচে পর্তুগাল শুরুতে জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে গেলেও বিরতির আগেই ইয়োয়ানে উইসার গোলে সমতায় ফেরে ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ একাধিক পরিবর্তন আনলেও রোনালদোকে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে রাখেন। পুরো ম্যাচে তিনি খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি এবং মাত্র ২৫টি টাচ করতে সক্ষম হন। ম্যাচে রোনালদো তিনটি শট নেন, তবে একটিও লক্ষ্যে ছিল না। তবু তিনি আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোল সংখ্যা ১৪৩, যা পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রোনালদো। সেখানে তিনি অবশ্য ইতিবাচক ছিলেন। শুরুটা মনমতো হয়নি জানিয়ে রোনালদো বলেন, ‘আমরা যেভাবে শুরু করতে চেয়েছিলাম, সেভাবে হয়নি।’ তবে সামনের ম্যাচগুলো নিয়ে আশাবাদী আল নাসর তারকা। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু এটা (বিশ্বকাপ) এখনো শেষ হয়নি। মাথা উঁচু রেখে পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে হবে।’ রোনালদোর এই বার্তাকে সমর্থকরা দলের মনোবল চাঙা রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, কোচ রবার্তো মার্টিনেজ রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এমন ম্যাচে বিশ্বের সেরা গোলদাতাকে মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া কোনো মানে হয় না, কারণ গোল দরকার হলে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
পর্তুগাল এখন গ্রুপ পর্বে পরবর্তী ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে এবং এরপর কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলবে।