আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেওয়ার সময় খুব কম মানুষই বিশ্বাস করেছিলেন, লিওনেল স্কালোনি একদিন দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচ হয়ে উঠবেন। অভিজ্ঞতার অভাবের কারণে সমালোচনার মুখে দায়িত্ব পাওয়া সেই কোচই এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সোনালি যুগের স্থপতি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ-৩২-এর ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে নিজের ১০০তম ম্যাচ পূর্ণ করলেন স্কালোনি।
২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর হোর্হে সাম্পাওলির বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান স্কালোনি। পরে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব নিয়ে বদলে দেন পুরো দলের চেহারা। তার অধীনেই দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জেতে আর্জেন্টিনা। এরপর ২০২২ সালে ফাইনালিসিমা এবং একই বছর কাতার বিশ্বকাপ জিতে তৃতীয় তারকা যোগ করে আলবিসেলেস্তেরা। ২০২৪ সালে আসে আরও একটি কোপা আমেরিকার শিরোপা।
শততম ম্যাচের আগে স্কালোনির পরিসংখ্যানও ঈর্ষণীয়। প্রথম ৯৯ ম্যাচে তার দল জিতেছে ৭২টি, ড্র করেছে ১৮টি এবং হেরেছে মাত্র ৯টি। এই সময়ে আর্জেন্টিনা করেছে ২০৬ গোল, হজম করেছে মাত্র ৫০টি। জয়ের হার প্রায় ৭৩ শতাংশ। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে তার অধীনে টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকেও নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা।
তবে শততম ম্যাচের আগে ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাননি স্কালোনি। তার মনোযোগ ছিল প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দেকে ঘিরেই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম দিনের মতোই আছি। প্রতিটি ম্যাচের আগে একই রকম অনুভূতি কাজ করে। কোনো ম্যাচই সহজ নয়।’
অবশেষে স্মরণীয় সেই ম্যাচে নাটকীয় জয়ও পেয়েছে আর্জেন্টিনা। মায়ামিতে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারাতে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচ শেষে স্কালোনি স্বীকার করেন, নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচই সহজ নয়, ‘আমাদের ভুগতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়রা দারুণ দেখিয়েছে। তারা ক্লান্ত ছিল, তবু লড়ে গেছে। এ ধরনের ম্যাচই মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বকাপে কোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
মাত্র আট বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে স্কালোনি নিজেকে ইতোমধ্যেই আর্জেন্টিনার সর্বকালের সেরা কোচদের কাতারে নিয়ে গেছেন। সিজার লুইস মেনোত্তি ও কার্লোস বিলার্দোর পর বিশ্বকাপ জেতানো তৃতীয় আর্জেন্টাইন কোচ তিনি। আর শততম ম্যাচের মাইলফলক তার সেই বর্ণাঢ্য যাত্রায় যোগ করল আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায়।