নিউ জার্সিতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের পর সেলেসাও শিবিরে এখন চলছে কাটাছেঁড়া। ব্রুনো গিমারাইসের পেনাল্টি মিসের পর যখন চারদিকে সমালোচনার ঝড়। অনেকে অভিযোগ করছেন, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র পেনাল্টি নিতে চাননি। সে অভিযোগ উড়িয়ে নিজের অবস্থান ও কোচের সিদ্ধান্ত পরিষ্কার করতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন ভিনি। চলতি টুর্নামেন্টে চার গোল করে ব্রাজিলের সেরা পারফরমার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা এই তারকা ফরোয়ার্ড স্পষ্ট জানিয়েছেন, পেনাল্টি নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন এবং দায়িত্ব এড়ানোর কোনো মানসিকতা তার ছিল না।
ম্যাচ শেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘কোচ ম্যাচ শুরুর আগেই পেনাল্টি কে নেবেন-সেটা ঠিক করে দেন। তিনি ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন। আমার মধ্যে কখনই কোনো স্বার্থপরতা কাজ করেনি। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে হবে-এমন কোনো ভাবনাও ছিল না। এ কারণেই ব্রুনো পেনাল্টি নিয়েছিল। ও আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি মারে, তাই কোচ ব্রুনোকে বেছে নেন। ব্যস, এটুকুই।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘অনেকে হয়তো বলবে আমি পেনাল্টি নিতে চাইনি। কিন্তু আমি দায়িত্ব ছেড়ে পালানোর পাত্র নই। রিয়াল মাদ্রিদে কোচ যখন আমাকে বেছে নেন, আমি পেনাল্টি নিই।’
পরিসংখ্যান বলছে, ভিনিসিয়ুস তার ক্যারিয়ারে ১৯টি পেনাল্টি নিয়ে ১৩টিতে গোল করেছেন। তবে ব্রাজিলের জার্সিতে তিনটি শটের মধ্যে তার গোল মাত্র একটি।
অন্যদিকে ব্রুনো গিমারাইস তার পুরো ক্যারিয়ারে মাত্র তিনবার পেনাল্টি শট নিয়ে সবকটিতে গোল করলেও ব্রাজিলের হয়ে এটিই ছিল তার প্রথম পেনাল্টি। অভিজ্ঞতার এ পার্থক্যের কারণেই সমর্থকরা ভিনিসিয়ুসকে পেনাল্টি না দেওয়ায় কোচের ওপর ক্ষুব্ধ।
তবে ভিনিসিয়ুস কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে দলের ভবিষ্যতের দিকে নজর দিচ্ছেন। সতীর্থের পাশে দাঁড়িয়ে এবং কোচের কৌশলকে সমর্থন করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী বিশ্বকাপ এবং সামনের ম্যাচগুলোর জন্য আরো ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে।’ ভিনির এই পরিপক্ব বক্তব্য পরাজয়ের ক্ষত কিছুটা উপশম করলেও ব্রাজিলের মতো দলের এমন বড় মঞ্চে পেনাল্টি মিসের এই বিপর্যয় ভক্তদের মনে দীর্ঘদিন দাগ কেটে থাকবে।