ফুটবল বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপনের ঠিক এক সপ্তাহ পর আবারও মাঠে নামছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো)। গ্রুপ ‘কে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী বুধবার সকাল ৮টায় এস্তাদিও গুয়াদালাজারায় তারা মুখোমুখি হবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টেবিলের শীর্ষস্থানে থাকা শক্তিশালী কলম্বিয়ার।
টুর্নামেন্টে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে পর্তুগালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়েছিল আফ্রিকান পরাশক্তি কঙ্গো। সে ম্যাচে হোয়ান উইসার চমৎকার গোলে পর্তুগিজদের আটকে দিয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় ‘দ্য লিওপার্ডস’রা। প্রথম ম্যাচে পর্তুগাল ড্র করায় গ্রুপে শুরুর দিকেই আধিপত্য বিস্তারের দারুণ সুযোগ লুফে নেয় নেস্তোর লোরেনজোর কলম্বিয়া। নিজেদের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে এখন গ্রুপে সবার ওপরে রয়েছে তারা।
উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে কলম্বিয়া জিতলেও ফ্যাবিও ক্যানাভারোর শিষ্যরা তাদের বেশ ভালোই পরীক্ষা নিয়েছিল। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে লুইস দিয়াজের দুর্দান্ত স্ট্রাইকে কলম্বিয়া ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও ম্যাচ ড্র হওয়ার এক তীব্র আতঙ্ক তাড়া করছিল দক্ষিণ আমেরিকান দলটিকে। অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমের নবম মিনিটে (৯০+৯) জামিনতন কাম্পাজ গোল করে নবাগত উজবেকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। এ জয়ের ফলে গ্রুপে একমাত্র দল হিসেবে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এখন কলম্বিয়া। বুধবারের ম্যাচে আরেকটি জয় পেলেই তাদের শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে।
তবে কলম্বিয়ার জন্য এই পথ মোটেও সহজ হবে না। কঙ্গো ডিআরেরর কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে রক্ষণভাগে পাঁচ ডিফেন্ডারকে খেলিয়ে দলকে বেশ জমাট করে তুলেছেন। প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের জোয়াও নেভেসের কাছে ম্যাচের ছয় মিনিটেই গোল হজম করার পরও খেই হারিয়ে ফেলেনি কঙ্গো। বরং দারুণ চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়ে রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যদের পুরো ম্যাচে মাত্র ছয়টি শট নেওয়ার সুযোগ দেয় তারা, যেখানে নিজেরা আক্রমণ চালায় আটবার। ম্যাচের শেষভাগে সেড্রিক বাকাম্বু ও জোরিস কায়েম্বের মিস হওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে হয়তো পর্তুগালের বিপক্ষে পূর্ণ তিন পয়েন্টই পেয়ে যেত কঙ্গো।
দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসা কঙ্গো ডিআর কেবল সংখ্যা বাড়াতে উত্তর আমেরিকায় আসেনি—তা তারা প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ না খেললেও তার আগের দুই আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল ও শেষ ১৬-তে খেলা কলম্বিয়া চাইবে যেকোনো মূল্যে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে। সব মিলিয়ে গুয়াদালাহারায় একটি রোমাঞ্চকর ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।