কাতার বিশ্বকাপে চমক জাগানো পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে সেমিফাইনালে খেলেছিল মরক্কো। সে ধারাবাহিকতা চলতি বিশ্বকাপেও ধরে রেখেছে ‘আটলাস লায়ন্স’রা। আসরের শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে আশরাফ হাকিমিরা। তবে এখানেই থেমে থাকতে চান না মরক্কো কোচ মোহামেদ ওয়াহবি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মরক্কো বড় কিছু করতেই বিশ্বকাপে এসেছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ছিল অস্বস্তি, ভুল আর কানাডার অবিরাম চাপ। কিন্তু বিরতির পর যেন সম্পূর্ণ বদলে যায় মরক্কো। কৌশলগত পরিবর্তন, নিখুঁত পরিকল্পনা আর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আটলাস লায়ন্সরা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবি জানান, বিরতির সময়ই বদলে দেওয়া হয়েছিল ম্যাচের চিত্রনাট্য। প্রথমার্ধে কানাডার প্রেসিংয়ে তার দল ভুগলেও হাফ টাইমে ভিডিও বিশ্লেষণ দেখিয়ে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপরই দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের ছন্দ ফিরে পায় মরক্কো। ওয়াহবি বলেন, ‘প্রথমার্ধ ছিল খুবই তীব্র। বিরতিতে আমাদের কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। খেলোয়াড়দের কিছু ভিডিও দেখানো হয়েছিল; এরপর আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি নিতে পেরেছি।’
তবে সে পরিবর্তনের সব রহস্য তিনি প্রকাশ করতে চাননি। কোচের ভাষায়, ‘কী পরিবর্তন করেছি, সেটা বিস্তারিত বলতে চাই না। সামনে আমাদের আরো ম্যাচ আছে। তবে আমরা আমাদের ফুটবল দর্শন বদলাইনি। কানাডার প্রেসিং ভাঙতে মিডফিল্ড ও গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনুকে আরো কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছি। আমরা জানতাম তাদের রক্ষণভাগের পেছনে কিছু জায়গা তৈরি হবে, আর সে সুযোগটাই কাজে লাগাতে হবে।’
কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও সন্তুষ্ট হয়ে থেমে যেতে রাজি নন মরক্কোর কোচ। তার চোখ এখন আরো বড় লক্ষ্যেই। তার ভাষায়, ‘এখন মানুষ মরক্কোকে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। কিন্তু আমরা এখানেই থামতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা একই আছে—আমরা আরো এগিয়ে যেতে চাই।’
ম্যাচ জিতলেও কানাডার দাপটও স্বীকার করে নিয়েছেন মরক্কোর কোচ। তার মতে, বিশ্বকাপে এমন কঠিন সময় আসবেই, আর সে মুহূর্তে মানসিক দৃঢ়তাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র, ‘খেলোয়াড়দের আমরা বুঝিয়েছি যে, এটা বিশ্বকাপ। এখানে কঠিন মুহূর্ত আসবেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যখন আপনি নিজের সেরা খেলাটা খেলতে পারছেন না, তখনো যেন ভেঙে না পড়েন। আমাদের দল সেটাই করেছে। কঠিন সময় পার করে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি।’
তবে বড় জয়ের রাতেও একটি দুশ্চিন্তা রয়ে গেছে মরক্কো শিবিরে। প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন দলের গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারি। ওয়াহবি জানান, ‘এখনো চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলিনি। তার উরুতে ব্যথা অনুভূত হয়েছে। আগামী কদিনের মধ্যেই আমরা তার অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারব।’