২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ সময় ইউরোপের কোনো দলের মুখোমুখি হয়নি লিওনেল মেসিদের আর্জেন্টিনা। এমনকি স্পেনের বিপক্ষে ফিনালিসিমা বাতিল হওয়ায় শঙ্কা তৈরি হয়েছিল—চার বছর পেরিয়েও ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ ছাড়া বিশ্বকাপে খেলতে নামতে পারে দলটি।
তবে সেই সম্ভাবনা আর থাকছে না। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতিতে নতুন করে দুটি প্রীতি ম্যাচের সূচি ঘোষণা করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
সূচি অনুযায়ী, ৬ জুন হন্ডুরাসের বিপক্ষে এবং ৯ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এর মাধ্যমে অন্তত একটি ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাচ্ছে লিওনেল স্কালোনির দল, যা তাদের প্রস্তুতিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে দুটি ম্যাচই। ৬ জুন টেক্সাসের কলেজ স্টেশনে এজিস কাইল ফিল্ডে হন্ডুরাসের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। প্রায় ১ লাখ ২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৯ জুন আলাবামার অবার্নের জর্ডান-হারে স্টেডিয়ামে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এর আগে মার্চে নিজেদের দেশে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে মৌরিতানিয়াকে ২-১ গোলে হারালেও দলের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না কোচ স্কালোনি। এমনকি গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজও হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে জাম্বিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয় আলবিসেলেস্তেরা।
দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার কারণে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে স্কালোনিকে। এক পর্যায়ে সংবাদ সম্মেলনে ঢুকে একজন ভক্ত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার পরামর্শও দেন। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো জবাব দেননি কোচ, তবে শেষ দুই ম্যাচের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ, যা চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। ‘জে’ গ্রুপে থাকা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২২ জুন অস্ট্রিয়া এবং ২৭ জুন জর্ডানের বিপক্ষে খেলবে তারা।