চলতি মৌসুমটা দাপুটে শুরু করেছে প্রিমিয়ার লিগের জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। এবার ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে গোলের উৎসব করল সিটিজেনরা। আর্লিং হালান্ড ও রায়ান চেরকির জোড়া গোলে স্বাগতিকদের ৪-১ গোলে হারিয়েছে সিটি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ম্যাচে বল দখল, আক্রমণ ও লক্ষ্যে শট মিলিয়ে সবদিক থেকেই আধিপত্য ছিল ম্যানসিটির। ম্যাচে ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছে তারা। সিটির ৯টি শট লক্ষ্যে থাকলেও প্যালেসের অন-টার্গেট শট ছিল মাত্র একটি।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। দ্বিতীয় মিনিটে এডি এনকেটিয়ার কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে নেওয়া শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা। চার মিনিট পর সিটির এলিয়ট অ্যান্ডারসনের জোরালো শটও এক হাতে ফিরিয়ে দেন প্যালেস গোলরক্ষক ডিন হ্যান্ডারসন।
১৭তম মিনিটে অবশ্য আর রক্ষা হয়নি প্যালেসের। অ্যান্তোয়নে সেমেনিওর ক্রস থেকে ছয় গজ বক্সের বাইরে দাঁড়িয়ে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান হালান্ড। ক্রসবার ঘেঁষে নেওয়া সেই গোলে এগিয়ে যায় সিটি।
২১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল সফরকারীরা। ফাঁকায় বল পেয়েও সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি ফিল ফোডেন; তার শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। ফলে প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানেই এগিয়ে থাকে ম্যানসিটি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে প্যালেস সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও এনকেটিয়ার শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। ৫৪ মিনিটে সিটির ব্যবধান বাড়ান রায়ান চেরকি। ফোডেনের পাস পেয়ে ডি-বক্সে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুজনের মাঝ দিয়ে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান তিনি।
দুই মিনিট পরই ব্যবধান কমায় প্যালেস। ইয়েরেমি পিনোর ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। সেই বল দোন্নারুমার পিঠে লেগে জালে ঢুকে যায়। ফলে আত্মঘাতী গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১।
তবে প্যালেসের স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মিনিট পরই নিজের দ্বিতীয় গোল করে সিটির ব্যবধান আবার বাড়িয়ে দেন চেরকি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার জোরালো শট এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে প্যালেসের গোলরক্ষক হ্যান্ডারসনকে পরাস্ত করে।
৮৪তম মিনিটে ম্যাচের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন হালান্ড। দূর থেকে এগিয়ে এসে ডি-বক্সে বল বাড়ান ফোডেন। সেই পাস থেকে কোনাকুনি শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড। তাতে ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইতিহাদের দলটি।
ম্যাচে জোড়া গোলের মাধ্যমে প্যালেসের বিপক্ষে গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন হালান্ড। এই ম্যাচসহ দলটির বিপক্ষে ছয় ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯টি, যা প্রিমিয়ার লিগে নির্দিষ্ট কোনো দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।
এই জয়ের ফলে টানা দুই ম্যাচ অপরাজিত থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই রইলো সিটি। তাদের ৬ পয়েন্টের বিপরীতে ১টি করে জয় নিয়ে পরের তিনটি স্থানে রয়েছে ব্রাইটন, ব্রেন্টফোর্ড ও আর্সেনাল।