দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত ম্যাচটি ছিল ইংল্যান্ডের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে। মনে হচ্ছিল সিরিজের আগের দুই ম্যাচের মতোই পাকিস্তান সহজে পরাস্ত হবে। কিন্তু ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা, তা আবারও প্রমাণিত হলো এজবাস্টন টেস্টের শেষভাগে। তবে পাকিস্তানের লড়াই ও পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের শুরুর ধাক্কা সামলে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ডই। ঘরের মাঠে প্রথমবার পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে তারা।
এজবাস্টন টেস্টে ৮ উইকেটের জয়ে ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করল। এর আগে সিরিজের হেডিংলি টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে এবং লর্ডস টেস্টে ১৯৪ রানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের সামনে ১৩০ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শুরুতেই নাটকের মুখোমুখি হতে হয়। পাকিস্তানের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাস নিজের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই ফিরিয়ে দেন ওপেনার বেন ডাকেটকে। ওভারের শেষ বলে এমিলিও গে-কে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেললে মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচটিতে রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তবে বিপর্যয় সামাল দিতে সময় নেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট এবং জর্ডান কক্স। যদিও ইনিংসের সূচনাতেই জো রুটকে ২৩ রানের মাথায় বোল্ড করেছিলেন মোহাম্মদ আলী, কিন্তু নো বল হওয়ার কারণে বেঁচে যান রুট। এরপর এই দুই ব্যাটার দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তৃতীয় উইকেটে রুট ও কক্স অবিচ্ছিন্ন ১২৮ রানের জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত রুট ৬৯ বলে ৬২ রান এবং কক্স ৭৬ বলে ৫৯ রান করে অপরাজিত থেকে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন।
এর আগে সিরিজের প্রথম পাঁচ ইনিংসে একবারও ২০০ রান পার করতে না পারা পাকিস্তান দল দ্বিতীয় ইনিংসে অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ায়। ১৩৩ রানে প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর ইনিংস হারের বিপদ কাটিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪৯ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। তৃতীয় দিনে তারা শেষ ৮ উইকেটে তুলে নেয় ৩৯৭ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ১৩৩/১০, ৩৩.৫ ওভার ও ৪৪৯/১০, ৯৬.৪ ওভার (মাসুদ ৯৫, রাজাউল্লাহ ৮১, বাবর ৭৬, আওয়াইস ৫৯; অ্যাটকিনসন ৩/১০৯)।
ইংল্যান্ড: ৪৫৩/১০, ৮৯ ওভার (ব্রুক ৭৫, স্মিথ ৬৯, লরেন্স ৬৫, গে ৬০, রবিনসন ৫০; রাজাউল্লাহ ৪/১৪৮) ও ১৩০/২, ২৪.২ ওভার (রুট ৬২*, কক্স ৫৯*)।
ফল: ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ইংল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে জয়ী।