পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের বাংলাদেশে প্রীতি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনাকে ঘিরে দেশের ফুটবল অঙ্গনে বিপুল আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। রোববার ব্রাজিলের পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করে আয়োজন ব্যবস্থার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে প্রস্তাবিত ম্যাচের সূচি ও অর্থায়নের সঠিক সমন্বয় করা এখন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে আগামী ৫ বা ৬ অক্টোবর ঢাকায় প্রীতি ম্যাচটি খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে জটিলতা তৈরি করেছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের নিজস্ব আন্তর্জাতিক সূচি। লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ‘ফিফা আসিয়ান কাপ’-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩ অক্টোবর খেলা শেষ করে ফেরার পরপরই ৫ বা ৬ তারিখে ব্রাজিল ম্যাচের মতো বড় আসরে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের শারীরিক ফিটনেস এবং লজিস্টিকসের দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন।
বাফুফে নির্বাহী কমিটির সদস্য সাখাওয়াৎ হোসেন ভূঁইয়া শাহীন জানান, এই সংকট নিরসনে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনা করবেন। উদ্দেশ্য—যেন বাংলাদেশ দল আসিয়ান কাপেও নির্বিঘ্নে অংশ নিতে পারে এবং ব্রাজিলের সঙ্গে প্রস্তাবিত ম্যাচটিও সুবিধাজনক সময়ে আয়োজন করা সম্ভব হয়।
এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খেলতে গিয়ে গ্যালারিতে প্রচুর বাংলাদেশি সমর্থকের সমর্থন পাওয়ার দৃশ্য চোখ এড়ায়নি ব্রাজিল ফুটবল কর্মকর্তাদের। বাংলাদেশে বিদ্যমান সুবিশাল ফ্যানবেজ ও ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ বিবেচনা করেই ঢাকায় এসে খেলতে ব্রাজিল দলটি বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে। ২০১১ সালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ঢাকা সফর করার পর ফুটবলে যে উন্মাদনা উঠেছিল, ব্রাজিলের এই সম্ভাব্য সফর দেশের ফুটবল সংস্কৃতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
তবে ব্রাজিলের মতো দলকে এনে ম্যাচটি আয়োজন করতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার বিশাল বাজেটের প্রয়োজন হতে পারে। বাফুফে জানিয়েছে, এটি জাতীয় মর্যাদার বিষয় হওয়ায় ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি সহায়তায় এই বাজেটের সুরাহা করা সম্ভব হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখন বাফুফে ও ফিফার আসন্ন বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা।