হোম > বিশ্ব > আফ্রিকা

আফ্রিকায় ভুট্টার দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে পুষ্টিকর ঐতিহ্যবাহী ফসল

আমার দেশ অনলাইন

আফ্রিকার কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষে চালু হওয়া ‘গ্রিন রেভল্যুশন’ উদ্যোগের কারণে মহাদেশটির বহু পুষ্টিকর ও জলবায়ু-সহনশীল ঐতিহ্যবাহী ফসল চাষের জমি কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভুট্টা চাষ সম্প্রসারণের বিপরীতে বাজরা, জোয়ার, কাসাভা ও চিনাবাদামের মতো স্থানীয় ফসল পিছিয়ে পড়ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

দাতা-নির্ভর কৃষি উন্নয়ন উদ্যোগ এজিআরএ-এর ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গবেষকরা আফ্রিকার কৃষিতে এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রতিষ্ঠানটি আগে ‘অ্যালায়েন্স ফর এ গ্রিন রেভল্যুশন ইন আফ্রিকা’ নামে পরিচিত ছিল। বাণিজ্যিক বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য থাকলেও গবেষকদের দাবি, প্রত্যাশিত ‘উৎপাদনশীলতা বিপ্লব’ ঘটেনি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, এজিআরএ-সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে ভুট্টা চাষে বড় অঙ্কের ভর্তুকি ও বিনিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভুট্টা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে নতুন জমিতে ভুট্টা চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে। গত ১৮ বছরে এসব দেশে ভুট্টার ফলন বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ, যা এজিআরএর পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম।

দেশভেদে পরিস্থিতিও ভিন্ন। মালাউই ও ইথিওপিয়ায় ভুট্টার ফলন তুলনামূলকভাবে বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে কেনিয়ায়—যেখানে এজিআরএর সদর দপ্তর—ভুট্টার ফলন কমেছে।

ভুট্টার জমি বাড়লেও কমেছে বাজরা

গবেষকদের মতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাজরা। জলবায়ু পরিবর্তনের সময় আফ্রিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শস্যটি তাপ ও খরা সহ্য করতে পারে এবং তুলনামূলকভাবে কম কৃষি উপকরণ ব্যবহার করেই উৎপাদন করা যায়। ২০০৬ সালে এজিআরএ যাত্রা শুরুর সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে ভুট্টা ও বাজরার উপস্থিতি ছিল প্রায় সমপর্যায়ের। এরপর বাজরার উৎপাদন কমেছে ২৭ শতাংশ। বিপরীতে ভুট্টার উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

একই সময়ে বাজরার ফলন কমেছে ১৭ শতাংশ। ভুট্টা চাষের জমি ৭১ শতাংশ বাড়লেও বাজরার জমি কমেছে ১২ শতাংশ। শুধু বাজরা নয়, ঐতিহ্যবাহী অন্যান্য ফসলও বিনিয়োগ ও চাষের জমি হারাচ্ছে। এজিআরএ-সংশ্লিষ্ট ১৩টি দেশে ২০০৬ সালের পর কাসাভার উৎপাদনশীলতা মোট ২১ শতাংশ এবং চিনাবাদামের উৎপাদনশীলতা ১০ শতাংশ কমেছে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সময়ে ফসল বৈচিত্র্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

গবেষকদের ভাষ্য, বাজরাকে ভুট্টার তুলনায় ‘পিছিয়ে থাকা’ কোনো ফসল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আফ্রিকার শুষ্ক অঞ্চলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় জনগোষ্ঠী এ শস্যের ওপর নির্ভর করে আসছে। তাপ ও খরা সহ্য করার পাশাপাশি এটি এমন পরিবেশেও উৎপাদিত হতে পারে, যেখানে অনেক প্রচলিত ফসল টিকে থাকতে পারে না।

২০২৩ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ‘আন্তর্জাতিক বাজরা বছর’ পালন করে শস্যটির পরিবেশগত ও সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে।

বাজরার মতো জোয়ার, ফনিও, কাউপিয়া, কাসাভা, স্থানীয় শাকসবজি ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী ফসলও আফ্রিকার কৃষিজ জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে এগুলো স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস, কৃষিজ্ঞান ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সময়ে কৃষিতে বৈচিত্র্য কমিয়ে মাত্র কয়েকটি ফসলের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো ঝুঁকি তৈরি করে। কোনো একটি ফসল খরা, রোগ বা পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বৈচিত্র্যময় কৃষিব্যবস্থায় অন্য ফসল টিকে থাকতে পারে। ফসলের বৈচিত্র্য ও পর্যায়ক্রমিক চাষ মাটির উর্বরতা ধরে রাখতেও সহায়তা করে।

নীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান

গবেষণায় বলা হয়েছে, এজিআরএ বর্তমানে বৈচিত্র্যময়, পুষ্টিকর ও জলবায়ু-সহনশীল ফসলের গুরুত্বের কথা বলছে। তাদের বীজ কর্মসূচিতে বাজরা, জোয়ার, কাউপিয়া ও চিনাবাদারের মতো ফসলও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে গবেষকদের আশঙ্কা, একই সঙ্গে ভুট্টার মতো প্রধান বাণিজ্যিক ফসলের ওপর নির্ভরশীল কৃষিনীতি অব্যাহত থাকলে ফসলের বৈচিত্র্য রক্ষা কঠিন হবে।

তাদের মতে, কৃষকদের নিজেদের বীজ সংরক্ষণ, ব্যবহার, বিনিময় ও উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় জাত ও কৃষিজ্ঞান সংরক্ষণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কোন জাত ভবিষ্যতে টিকে থাকবে, সে সিদ্ধান্ত শুধু বাণিজ্যিক বীজবাজারের ওপর ছেড়ে না দিয়ে কৃষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

গবেষকদের বক্তব্য, আফ্রিকার কৃষকদের ‘রক্ষা’ করার চেয়ে তাদের ঐতিহ্যবাহী ফসলগুলোকে রক্ষা করাই এখন বেশি জরুরি। কোনো স্থানীয় ফসল কৃষকের মাঠ থেকে হারিয়ে গেলে শুধু একটি শস্যই হারায় না; এর সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে স্থানীয়ভাবে অভিযোজিত বীজ, চাষ ও খাদ্য প্রস্তুতের জ্ঞান এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা খাদ্যসংস্কৃতি।

জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক খাদ্য ও সারবাজারের অস্থিরতার মধ্যে আফ্রিকার খাদ্যনিরাপত্তার জন্য কৃষিবৈচিত্র্যকে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে, পুষ্টিকর খাদ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হলে শুধু খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং কৃষিতে বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখাও জরুরি।

সূত্র: আল জাজিরা

এআরবি

রাজা চার্লসের আশ্বাসে বার্মিংহাম গেমসে ফিরল উগান্ডা

কঙ্গোর স্কুলে আগুন, নিহত ২৯ শিশু

মিসরে ৪ হাজার ৩০০ বছরের পুরোনো বিচারকের সমাধি আবিষ্কার

কেপ ভার্দেতে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৫

শান্তিচুক্তির পরও থামেনি টাইগ্রের লড়াই, পুরোনো শত্রুদের নতুন জোট

যৌনাঙ্গ চুরির গুজবে ৬ দেশে ৮০ জনকে হত্যা

চুরি করতে গিয়ে বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪৩ জনের মৃত্যু

মিসরে যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৬, আহত ২৮

লিবিয়ার রাজনৈতিক সংকট নিরসনে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর সমঝোতা

সুদানে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে একটি মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ