হোম > বিশ্ব

গাদ্দাফির ছেলে সাইফকে যেভাবে হত্যা করে চার মুখোশধারী

আমার দেশ অনলাইন

লিবিয়ার ত্রিপোলির একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলছেন সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১১। ছবি: এপি।

লিবিয়ার সাবেক শাসক কর্নেল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি গুলিতে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে নিজ বাসভবনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। চার মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। উচ্চশিক্ষিত সাইফ লিবিয়ার একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল।

তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার ইউরো নিউজ জানায়, ৫৩ বছর বয়সি সাইফকে রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে জিনতানে হত্যা করা হয়। তার আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এক ফেসবুক পোস্টে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় লিবিয়ায় শান্তি আলোচনায় গাদ্দাফিপন্থিদের প্রতিনিধিত্বকারী আবদুল্লাহ ওথমান আবদুর রহিমও সাইফের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং সশস্ত্র হামলাকারীরা সরাসরি তাকে হত্যা করতেই বাড়িতে প্রবেশ করেছিল।

গাদ্দাফির রাজনৈতিক দলের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চারজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে ‘কাপুরুষোচিত ও বিশ্বাসঘাতক’ উপায়ে সাইফকে হত্যা করে। হামলার সময় তারা বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়। দলটির দাবি, হত্যার আগে হামলাকারীদের সঙ্গে সাইফের সংঘর্ষও হয়।

তবে সাইফের বোন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি লিবিয়ার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, আলজেরিয়া সীমান্তের কাছে সাইফ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর ত্রিপোলিভিত্তিক উচ্চ রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রধান খালেদ আল-মিসরি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও সাইফ আল-ইসলাম ২০১১ সালের পরবর্তী লিবিয়ার রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার মৃত্যু গাদ্দাফিপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে আরও সক্রিয় ও সংঘাতমুখী করে তুলতে পারে।

১৯৭২ সালে ত্রিপোলিতে জন্ম নেওয়া সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি ছিলেন মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির দ্বিতীয় ছেলে। তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। মুয়াম্মার গাদ্দাফি চার দশকের বেশি সময় ধরে তেলসমৃদ্ধ লিবিয়া শাসন করেন এবং তার শাসনামলে দেশটি তুলনামূলক স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ছিল। তবে ২০১১ সালে গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর সামরিক হস্তক্ষেপে তার শাসনের পতন ঘটে।

গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর লিবিয়া আজও স্থিতিশীলতা ফিরে পায়নি। দেশজুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে এবং তারা পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই অস্থির সময়ে সাইফ পালিয়ে প্রতিবেশী নাইজারে যাওয়ার চেষ্টা করলে জিনতানের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে আটক হন এবং দীর্ঘদিন কারাবন্দি অবস্থায় ছিলেন।

এসআর

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পর তেহরান সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

রিয়াদের বাসিন্দাদের ফোনে বিমান হামলার হুমকির সতর্কতা

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল

এল-সাইদের ধর্মবিশ্বাসে আক্রমণ রিপাবলিকানদের, উত্তপ্ত টাউন হল

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাশা কি অতিরিক্ত বেশি

ইসরাইলের সঙ্গে মিলে কি ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

কলম্বিয়ায় অবৈধ স্বর্ণখনি ধসে নিহত ১৪, নিখোঁজ ১৫

ইসরাইলে সাত বছরে ষষ্ঠ নির্বাচন, কপাল পুড়তে পারে নেতানিয়াহুর

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে ভর্তিতে জাতিগত বৈষম্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

সুদানে ড্রোন হামলায় কয়েক দিনে ১৬০ জনের বেশি নিহত