ইরান–ইসরাইল উত্তেজনা আরও তীব্র হচ্ছে। যুদ্ধ থামানোর কোনো উদ্যোগে নয়, বরং কঠোর জবাব দিতেই বদ্ধপরিকর তেহরান। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের ক্বালিবাফ এক পোস্টে বলেন, ‘আমরা কোনো যুদ্ধ–বিরতি চাই না। আগ্রাসীর মুখে এমন ঘুষি মারতে হবে, যাতে তারা আর কখনো ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের কথা চিন্তাও না করে।’
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয় ক্বালিবাফ আরও দাবি করেন, ইসরাইল তার “লজ্জাজনক অস্তিত্ব” টিকিয়ে রাখতে যুদ্ধ–আলোচনা–যুদ্ধবিরতি—এ চক্র বারবার চালিয়ে যেতে চায়। ‘এই চক্র আমরা ভেঙে দেব,’ বলেন তিনি।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সেয়েদ আলী খামেনি এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে।
ওই অভিযানে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক এলাকাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। টানা বোমাবর্ষণ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ড্রোন আক্রমণে প্রাণহানি বাড়ছে; ভেঙে পড়ছে বিদ্যুৎ–গ্যাস–যোগাযোগসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
প্রতিশোধে ইরানও পিছিয়ে নেই। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দফায় দফায় মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের দখলকৃত ভূখণ্ডে এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে। আঘাত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ঘাঁটি ও ইসরাইলি স্থাপনাতেও।
তেহরান বলছে, এ প্রতিরোধমূলক হামলা ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’। আর ওয়াশিংটন–তেলআবিব জোট বলছে, তারা ইরানের ‘আগ্রাসন’ ঠেকাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে যাবে।