ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে গাজার শাসন পরিত্যাগ ও অস্ত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আরব ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ। এমনকি আরব লীগ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রকাশিত সাত পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় যুদ্ধ বন্ধের প্রেক্ষাপটে হামাসকে গাজা শাসন শেষ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র জমা দিতে হবে। এর লক্ষ্য একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা আহ্বান জানিয়েছেন যে, ইসরাইল ও হামাস উভয়েই গাজা ত্যাগ করুক ও গাজার শাসনভার ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হোক।
হামাসকে নিরস্ত্রকরণের আহ্বান জানায় ফ্রান্স, সৌদি আরব, ব্রাজিল, কানাডা, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, জর্ডান, মেক্সিকো, নরওয়ে, কাতার, সেনেগাল, স্পেন, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরব লীগ।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয় ঘোষণায়।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল ব্যারো একে ‘ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন’ ঘোষণা বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই প্রথমবার আরব দেশগুলো হামাসকে প্রত্যাখ্যান করল, নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানাল।
ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, হামাস যেন ৭ অক্টোবরের ভয়াবহ হামলার জন্য কোনোভাবে পুরস্কৃত না হয়। তাদের জিম্মি মুক্তি, যুদ্ধবিরতি, গাজা শাসন থেকে সরে দাঁড়ানো এবং নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হতে হবে।
বিবৃতিতে জিম্মিদের মুক্তি, সহিংসতা বন্ধ, দখলদারিত্বের অবসান এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ তৈরি করার কথা বলা হয়। যুদ্ধোত্তর গাজায় একটি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শান্তিরক্ষী মিশন মোতায়েনের প্রস্তাবও রাখা হয়।