ইউক্রেন ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সংঘাত অবসানের অনিচ্ছার কারণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ক্রেমলিন।
বৃহস্পতিবার মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ইউক্রেন এখনো রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের হামলা ওয়াশিংটনের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
পেসকভ বলেন, ‘এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো প্রচেষ্টা ইউক্রেনের শাসকগোষ্ঠী এবং স্বয়ং জেলেনস্কির শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনিচ্ছার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
ইউক্রেনের হামলার বিষয়ে রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাকের বক্তব্যও তুলে ধরেন পেসকভ। তিনি বলেন, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কার্যত কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহান্তে দুই দেশের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এ মন্তব্য করেন তিনি।
ডিজেল সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাবের আশা
রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে মস্কো ও ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক সমঝোতার বিষয়েও কথা বলেন পেসকভ।
তিনি বলেন, রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্ব জ্বালানিবাজার বর্তমানে বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে।
পেসকভের ভাষ্য, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল এখন আন্তর্জাতিক বাজারে আসতে শুরু করেছে। এতে জ্বালানিবাজার স্থিতিশীল করতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল করার জন্য এ সরবরাহ যথেষ্ট হবে না।
ডিজেল সরবরাহের এ সমঝোতার বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থানেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, ইউরোপের দেশগুলো এখনো ‘ধ্বংসাত্মক’ অবস্থান ধরে রেখেছে।