ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পেলে এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা এমওএবি ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে প্রথমবারের মতো প্রায় ১১ টন ওজনের জিবিইউ-৪৩/বি এমওএবি ব্যবহার করা হলে তা যুদ্ধে বড় ধরনের উত্তেজনা বাড়াবে। তবে এ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় ধরে মার্কিন হামলা চললেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন হামলার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা, বিশেষ করে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনায়ও এমওএবি ব্যবহারের বিষয়টি রয়েছে।
মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু উপাদান ওই স্থাপনায় সংরক্ষণ করেছে। ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তাকে নিজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন ট্রাম্প।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর বিজয় ঘোষণা করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দ্রুত মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে যুদ্ধের অবসানে কার্যকর কৌশল নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই প্রশ্ন রয়েছে। ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বললেও, তার উপদেষ্টাদের কেউ কেউ মনে করছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হতে পারে।
সূত্র: সিএনএন
আরএ